কৃষিবিদ সিরাজুল করিমের লেখা ‘আধুনিক পদ্ধতিতে ফলফুল ও শাকসবজি চাষ’। টবে গাছের গোড়ার মাটি একেবারে গুড়ো না করে চাকা চাকা করে খুঁচে দেয়াই ভাল। এক্ষেত্রে মাটি খোঁচানোর গভীরতা হবে ৩-১০ সেঃ মিঃ বা ১ থেকে ৪ ইঞ্চি গভীর। এ কাজটি প্রতি ১০ দিনে একবার করে করতে হবে।টবের জন্য দোআঁশ মাটি খুব ভালো। প্রতিটি মাঝারি সাইজের টবের জন্য তিন ভাগের এক ভাগ পরিমাণ জৈব সার বা পচা গোবর মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে। এর সঙ্গে দুই চা-চামচ চুন, একমুঠো পরিমাণ হাড়ের গুঁড়া, দু’মুঠো ছাই মেশাতে পারলে ভালো হয়। এতে টবের মাটি দীর্ঘদিন উর্বর থাকবে। গাছ যথাসম্ভব রোদেলা স্থানে রাখতে হবে। প্রতিদিন সকাল ও বিকাল দুই বেলা অল্প করে পানি দিন। শুধু গাছের গোড়ায় পানি না দিয়ে ঝাঁজরি দিয়ে বৃষ্টির মতো ওপর থেকে পানি দেয়া ভালো। গাছের চেহারা দুর্বল দেখালে পরপর তিন-চারদিন ঝাঁজরিতে দুই চামচ ইউরিয়া সার গুলে পানি দিন। ফুল ফোটা শুরু হলে ফুল ও গাছ না ভিজিয়ে কেবল গোড়ায় পানি দিন। ফুল শুকিয়ে গেলে দ্রুত গাছ থেকে ফুলটি সরিয়ে ফেলুন। প্রতি ১০ থেকে ১৫ দিন পরপর গাছের গোড়ার মাটি হালকা নিড়িয়ে খুঁচিয়ে দিন। এ সময় লক্ষ রাখবেন খোঁচানোর গভীরতা ৩ থেকে ১০ সেন্টিমিটার বা ১ থেকে ৪ ইঞ্চির বেশিীৎ না হয়ে যায়। সদ্য লাগানো ফুলের চারা কয়েকদিন ছায়ায় রেখে সহনশীল করে নিতে হয়। যদি সম্ভব না হয় তাহলে কলা বা সুপারী গাছের খোল কেটে অথবা অন্য উপায়ে চারাগুলো রৌদ্র থেকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবে এ অবস্থায় সকালে-বিকালের রোদ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।