11 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 225
সে এক ঘুটঘুটে অন্ধকার রাত। কালো জলরাশির তলে ফুঁসে ফুঁসে উঠছে আটলান্টিক মহাসাগর। ক্যাপ্টেনের নাম থমাস, বোটের যাত্রী কেবল আমি। দু’ঘন্টা চলার পর থমাস ইঞ্জিন বন্ধ করে দিল। শব্দ দিয়ে
Excellent book! America te Bangladeshi der jiboner onek na bola kotha ei boi te paoa jay. Boi ti 80's er prekkhapot e lekha as per writer. Anowar Iqbal sir k current USA er society niye arekta boi lekhar onurodh thaklo
Was this review helpful to you?
By Alomoy Biswas, Apr 10, 2021
' আহমেরিকা'
আনোয়ার ইকবাল
প্রকাশক আদর্শ প্রিন্টার্স, বইমেলা ২০২১।
............................................
'আহমেরিকা'
লেখক আনোয়ার ইকবাল পেশায় স্থপতি, আমার সাথে পরিচয় সূত্র আমার বস- তাঁর বন্ধু। লেখকের বন্ধু এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশীদ, আমি সেই প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী। সেই সুবাদে
কয়েক বছর আগে লেখকের মাতার উদ্দ্যেশে নিবেদিত একটি শোকসভা বা স্মৃতিচারণ বা প্রার্থনা সভায় আমন্ত্রণ পাই। সেটি ছিল আমার জন্য তাঁর প্রকৃত পরিচয় আহরণের সুযোগ। সেখানে অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের অনেকের আদর্শ এই পিছিয়ে পড়া সমাজে অগ্রসর ও প্রগতির ধারার সাথে পথ নির্মাণে ভুমিকা রেখেছিল। এদের মধ্যে অধ্যাপক জামিলুররেজা চৌধুরীর কথা মনে পড়ছে, তিনি গত বছর কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
লেখকের ডাকনাম কচি, তাই আমি কচিভাই বলে ডাকি। সবাই স্মৃতিচারণ করেছেন তবে কচি ভাইয়ের কথাগুলো আমার হৃদপিণ্ডে বিঁধে আছে, এক দৃঢ়চেতা মাতার উপাখ্যানের উপচারে। কচি ভাইয়ের পিতা প্রকৌশলী ছিলেন, চাকুরীরত অবস্থায়, ১৯৭১ সালে অকস্মাৎ মৃত্যুতে পরিবারে বিপর্যয় নেমে আসে, এই অসমসাহসী নারীর কঠোর শাসনে সকল সন্তানেরা কীভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ-বিদ্যাপীঠ অতিক্রম করেছেন এমন বর্ণনায় স্মরণ করেছিলেন তিনি তাঁর মাতাকে। বলেছেন, তাঁর মায়ের কল্যাণেই সন্তানেরা উন্নত জীবন পেয়েছে। কচি ভাইয়ের চোখে কোন অশ্রুদানা ছিলোনা, মায়ের জন্য বুকভরা গর্ব উজ্জ্বল-কিরণে স্পর্শ করেছিলো উপস্থিত সকলকে।
এতোকথা লিখলাম কারণ ‘আহমেরিকা” বইখানি উৎসর্গ করেছেন তিনি তাঁর মাতাকে। আমি বুঝতে পারি তিনি কতটুকু যত্ন নিয়ে বইটি লিখেছেন যা তিনি এমন মাতাকে নিবেদন করতে পারেন।
বইটি এখনও পড়ছি, হাতে এসেছে কয়েকদিন আগে। তবে ফেসবুকের পাতায় অনেক অধ্যায় পড়া হয়েছে বই ছাপানোর আগেই। বুকে বাংলাদেশ নিয়ে ১৯৮৩ সাল হতে বাস করছেন আমেরিকার জর্জিয়ায়। বন্ধুর ডাকে নিউ ইয়র্ক থেকে গিয়েছেন ভার্জিনিয়া, বুয়েট থেকে পাশ করে অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের সিটে পৌঁছে দেবার আর টয়লেট পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ দিয়ে শুরু হয়েছিল চাকুরী , এই কাজটিকে ওরা বলে ‘আশার’। বর্তমানে তনি আমেরিকাতেও প্রতিষ্ঠিত স্থপতি।
লেখক আমেরিকার গল্প লেখেননি, সব সত্য ঘটনার বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন মাত্র, এই নির্ভার সততা বইটির শ্রী বৃদ্ধি করেছে, সত্যকথায় নির্মিত হয়েছে জীবন-সাহিত্য। আমাদের আমেরিকা-স্বপ্নকে তিনি সহজ ভাষায় বাস্তবের আলোয় প্রত্যক্ষ করাতে চেয়েছেন।