রবীন্দ্রপর্ব বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রেই অনন্যসাধারণ অবদান রেখেছেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে তিনিই বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদায় ভূষিত করেন। তাঁর পরিচয় যদিও ‘বিশ্বকবি’ হিসেবেই, তথাপি এ কথা অনস্বীকার্য যে, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ গদ্য লেখকের কৃতিত্ব তাঁরই। তাঁর সৃষ্টিকাল উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে আমৃত্যু বিস্তৃত। বিশ শতকের একটা বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একচ্ছত্র অধিপতি। রবীন্দ্রনাথের ভাবানুভূতি ও শিল্পচেতনা বিবর্তনধর্মী। সৃজনশীলতা, নব নব ভাবকল্পনা ও রূপচেতনার দ্বারা তিনি একটি স্বতন্ত্র ধারার সৃষ্টি করেন। তিনি অভূতপূর্ব শিল্পসমৃদ্ধ ও নতুন রূপাঙ্গিকের কাব্য, নাটক, উপন্যাস, ছোটগ্রল্প, প্রবন্ধ এবং দুহাজারেরও অধিক গান রচনা করেছেন। তবে এগুলিই সাহিত্যের ইতিহাসে তাঁকে মূল্যায়িত করার জন্য যথেষ্ট নয়। সাহিত্য, সমাজ, ধর্ম ও রাজনীতিবিষয়ক তাঁর বিবিধ প্রবন্ধ, সামাজিক ও ধর্মীয় বিশ্লেষক হিসেবে তাঁর অবদান, বিভিন্ন রচনার স্বকৃত ইংরেজি অনুবাদ সব মিলিয়ে প্রাচুর্যে ও বৈচিত্র্যে রবীন্দ্রনাথ একটি পূর্ণ প্রতিষ্ঠানস্বরূপ। তাঁর রচনা পৃথিবীর প্রধান প্রধান ভাষায় অনূদিত হয়েছে। কবি হিসেবে তিনি বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন গীতাঞ্জলি কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির মাধ্যমে। রবীন্দ্রযুগ বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধির সেরা যুগ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে বহু বই রচনা হয়েছে হচ্ছে। তাঁকে নিয়ে হচ্ছে কত গবেষণা। তাঁর জীবনী নিয়ে, তাঁর সাহিত্য কর্ম নিয়ে, তাঁর ভাব দর্শন নিয়ে অসংখ্য কাজ হয়েছে হচ্ছে। তেমনি ডা. কর্নেল রণজিৎ সেন “রবীন্দ্রকাব্য কর্ম ও জীবনচিত্র” বইটি রচনা করেছেন। এখানে তিনি রবীন্দ্রনাথ এর জীবন ও তাঁর কর্ম তুলে ধরেছেন। স্বল্প পরিসরে লেখক রবীন্দ্রনাথের পুরো জীবনী তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।