শাইখ জিয়াউর রহমান মুন্সী (হাফিজাহুল্লাহ)। জন্ম ১৯৮৪ সালে, কুমিল্লায়। পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত তিনি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষালাভ করেন। তারপর হিফজুল কুরআন সম্পন্ন করে নানুপুর মাদরাসা থেকে কওমি নেসাবের বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পড়াশোনা করেন তামিরুল মিল্লাত মাদরাসায়। আলিম পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা-তালিকায় ২য় স্থান, ফাজিল পরীক্ষায় ১৪তম স্থান অর্জন-সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। পেশাগত জীবনে বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অধ্যাপনা করেছেন এক যুগেরও বেশি সময়।
মাতৃভাষা বাংলার পাশাপাশি আরবি, ইংরেজি, উর্দু ও ফার্সি ভাষাতেও তিনি পারদর্শী। এ ছাড়া ফ্রেঞ্চ, জার্মান, ল্যাটিন প্রভৃতি ভাষার চর্চাও অব্যাহত রেখেছেন। ইসলামের কালজয়ী গ্রন্থগুলো বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যথার্থতা ও সাবলীলতা বজায় রেখে অনুবাদ-কর্ম সম্পাদনে তার মুনশিয়ানা চোখে পড়ার মতো। নির্দ্বিধায় বলা যায়, যথার্থ-অনুবাদ ও নতুন আঙ্গিকে ইলমি-গ্রন্থ নির্মাণে সময়ের অন্যতম অগ্রণী ব্যক্তিত্ব শাইখ জিয়াউর রহমান মুন্সী। তার অনূদিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে—রাসূলের চোখে দুনিয়া, সীরাতুন নবি সা., শামাইলুন নবি সা., জীবিকার খোঁজে, মৃত্যু থেকে কিয়ামাত, আপনার প্রয়োজন আল্লাহকে বলুন, আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল, বান্দার ডাকে আল্লাহর সাড়া, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর মর্মকথা, চল্লিশ হাদীস ও সুন্দর আখলাক।
আরও রয়েছে কুরআন মাজীদ-এর একটি স্ট্যান্ডার্ড অনুবাদ—যা প্রাচীন তাফসীর, অভিধান ও হাদীস-গ্রন্থ অধ্যয়নের অভিজ্ঞতার আলোকে ইউনিক স্টাইলে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্ল্যাসিকাল ইমামদের ব্যাখ্যা সংযুক্ত করে একখণ্ডে প্রণয়ন করেছেন তাফসীরুল আইম্মাহ। প্রামাণ্য সব অভিধান এবং আয়াত-হাদীসকে সামনে রেখে রচনা করা হচ্ছে আরবি-বাংলা অভিধান। আর রাসূল সা. থেকে বর্ণিত লক্ষ লক্ষ হাদীসের বিশাল ভান্ডার সুনিপুণভাবে সংকলন করা হচ্ছে ‘জামিউস সুন্নাহ’ শিরোনামে। বাংলায় এ প্রকল্পটি প্রকাশিত হচ্ছে ‘সুন্নাহ সমগ্র’ হিসেবে; যার প্রথম খণ্ড—সবার ওপরে ঈমান।