Category:সীরাতে রাসূল ﷺ
বুকে পাথর চেপে মদীনা ছাড়লেন বিলাল (রা.)। এরপর কেটে গেল বহুদিন। হঠাৎ একরাতে স্বপ্নে দেখলেন নবিজিকে। রাসূল (সা.) তাকে বলছেন, ‘বিলাল! এতদিনেও কি আমার রওজায় আসার সময় হয়নি তোমার?’ তড়িঘড়ি করে বিলাল ছুটে গেলেন মদীনায়। নবিজির রওজায় সালাম জানানোর পর কিছুটা শান্ত হলো মন। আর তখনই মদীনাবাসী তাকে জেঁকে ধরল—‘এতদিন বাদে এলে বিলাল। আজ অন্তত আযানটা দাও!’ সকলের অনুরোধে কাঁপা গলায় আযান শুরু করলেন বিলাল (রা.)। কিন্তু যখনই ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদ…’ প্রিয়তমের নামটা মুখে এল, তিনি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না। কাঁদছে বিলাল। কাঁদছে সারা মদীনা।
রাসূল (সা.)-এর প্রতি প্রচণ্ড আবেগ ও ভালোবাসা ছিল সাহাবিদের মনে। অথচ কী আশ্চর্য! এই মহামানব তাঁর সাহাবিদেরকে নয়, বরং আমাদেরকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেছেন! আমাদেরকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়েছেন! আমরাও ভীষণ মিস করি তাঁকে। কী অপূর্ব ছিল একেকটি দৃশ্য! খেজুর গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন নবিজি। উঠে হেঁটে চললেন মসজিদে নববির দিকে। কোনো সাহাবিকে দেখে তার খবরাখবর নিতে লাগলেন। নবিজির মুখে তখন এক চিলতে মুচকি হাসি। ওই সময়ে তাঁর মুখখানা কেমন ভরা-পূর্ণিমার চাঁদের মতো জ্বলজ্বল করছিল!
চমৎকার এসব দৃশ্য দুচোখে দেখার সুযোগ এ-পৃথিবীতে আর মিলবে না! তবে খানিক বাদেই আবার আশার আলো জ্বলে ওঠে, যখন হাতে তুলে নেওয়া হয় শামাইলুন নবি (সা.)। এটি এমন একটি বই, যার প্রতিটি পাতায় উঠে এসেছে নবি-জীবনের ভেতর-বাহির। রাসূল (সা.)-এর শারীরিক সৌষ্ঠব কিংবা অনুপম আখলাক—সবকিছুর নিখুঁত বিবরণ মিলবে অসাধারণ এই বইটিতে। নবিজিকে হৃদয়ে ধারণ করার এই সরল চাওয়াটুকু কিছুটা হলেও পূরণ হবে শামাইলুন নবি (সা.)-এ চোখ বোলালে।
Report incorrect information