3 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 150TK. 129 You Save TK. 21 (14%)
বইটির ফ্ল্যাপ এর লেখাঃ
না বউ, না শিশু, না আনন্দিত চারপাশ/আমি কারও। নই/আমি কেবল দেখতে থাকি- মেলাভর্তি মানুষঅবিরাম কলকল, ছলছল’... জীবন, মানুষ, প্রকৃতি, সঙ্গ ও নিঃসঙ্গতা-
কবিতা গণিত কিংবা রসায়নবিজ্ঞানের মতো বোঝার বিষয় নয়। কবি কহলিল জিব্রান এক পত্রে কবিতা প্রসঙ্গে লিখেছেন- ‘আমি জন্মেছি সেই বিশেষ শব্দটি উচ্চারণ করার জন্য, যে শব্দের প্রাণ আছে, ডানা আছে। যত দিন না জীবন আমাকে দিয়ে সেই উচ্চরণ করিয়ে নিচ্ছে, তত দিন অবধি আমি বেঁচে থাকতে চাই।’ ওপরের কথাগুলো কবি মাহবুব আজীজ নিশ্চয় জানেন। ‘ঠিক সন্ধ্যার আগে’ এই কাব্যগ্রন্থটির উৎসর্গ পর্বে বিবেকজাগ্রত বয়ান- ‘যে তুমি একদিন/ এই কাব্য হাতে তুলে নিলে; জানবে/ মানুষজীবনের কাছে এর অনেক ঋণ।/ দুঃখিত পাথর সে; তথাপি সুখী। মানবে-/....../’ কবির ভাবনাশক্তির গুণকীর্তন করতে হয়। কবির ভাবনাবলয় বিস্তৃত। মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় মেলে। বলে রাখা ভালো, কবি মাহবুব আজীজের ‘ঠিক সন্ধ্যার আগে’ প্রথম কাব্যগ্রন্থ। কবিতাগুলো সময়ের বেজে ওঠা কাব্যব্যঞ্জনা। এই কবিতা পাঠকালে পাঠকরা পাবেন; মানুষের বিবিধ আচরণের ইঙ্গিত।
যে কবির দায় থাকে পাঠক-চৈতন্যের সঙ্গে- আন্তরিক অন্বেয়ের; দ্ব্যর্থহীন ভাষায় যিনি বলতে পারেনÑ কবিতা রচনা ব্যক্তিস্বরূপের আত্মপ্রকাশ নয়, আসলে তা ব্যক্তিস্বরূপের হৃদয়ারণ্য থেকে নিষ্ক্রমণ। আবার দর্শনের বিচারে কবিতাকে সম্পূর্ণভাবে মূল্যায়ন করা যায় না। তবে দর্শনের শাখা ইসথেটিক্স বা নন্দনতত্ত্বের আলোকে কবিতাকে বহিরাঙ্গিক ও অন্তরাঙ্গিক দুভাবেই বিবেচনা যেমন করা যায়, ঠিক তেমন করে একজন কবি মানুষের জীবনের বাস্তবতা ও কল্পনাকে তুলে আনার প্রচেষ্টা- ব্যক্তিস্বরূপের হৃদয়ারণ্য থেকে নিষ্ক্রমণ ভালোবাসার মতো; যে ভালোবাসা বড্ড পবিত্র। কবি মাহবুব আজীজ তাই করে দেখালেন- ‘ঠিক সন্ধ্যার আগে’ কাব্যগ্রন্থটির কাব্যে।