‘আলো ছায়ার জোয়ার-ভাটা’—স্মৃতিমূলক গদ্যের বই। জীবন-তারিখ, স্মরণে বরণে, নানাবিধ ও চরিতামৃত—এই চার ভাগে সজ্জিত রচনাসংকলনটিতে রয়েছে ‘বেতার বাংলা’ পত্রিকার জন্ম-ইতিহাস—জননেতা মওলানা ভাসানী, কবি ফর্রুখ আহ্মদ, সাংবাদিক আলহাজ্ব শামসউল হুদা এবং গীতিকার ও মুক্তিযোদ্ধা বেতারকর্মী শহীদুল ইসলাম সম্পৃক্ত স্মৃতি এবং নজরুল জীবনের অলিখিত কথা; ‘শাপলা শালুকের আসর’ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতিজাদুঘর বিষয়ক ইতিহাস অনুষঙ্গী রচনাসহ কিছু ব্যক্তিগত স্মৃতি ও আত্মগত উপলব্ধির কথাও এই বইকে মূল্যবান করেছে। স্বাধীনতা-উত্তর কালে বেতার বাংলা পত্রিকাটির সূচনামুহূর্ত সম্পর্কে তাঁর চেয়ে বেশি কেই-বা বলতে পারবেন। কবি ফর্রুখ আহ্মদের ব্যক্তিত্বের উজ্জ্বলতাকে কতই না ভালোবাসা মাখিয়ে তুলে ধরেছেন তিনি! স্বাধীনতা-উত্তর কালে কবির বিপর্যস্ত দিনগুলির পরিচয়ও রয়েছে এখানে। মওলানা ভাসানীর স্মৃতিও নানা ইতিহাস-অনুষঙ্গে ভরপুর। এতে সংকলিত রচনাটি মনে করিয়ে দেয় গীতিকার শহীদুল ইসলামের কথা ভুলে গেলে আমাদের চলবে না। কবি বেনজীর আহমদ বা শিশুসাহিত্যিক-সাংবাদিক মোহাম্মদ মোদাব্বেরের সূত্রে নজরুল-জীবনের কিছু অজানা কথাও উঠে এসেছে। ছোটবেলার স্মৃতি বলতে গিয়ে দুই কালের মধ্যে গড়ে তুলেছেন সেতুবন্ধ! ফজল-এ-খোদার এই গদ্য রচনাগুলোতে উদার এক প্রগতিবাদী মনের পরিচয় পাওয়া যায়। স্মৃতিবিধুর এই রচনাগুলো শৈলীগত পরিশীলনের চেয়ে আন্তরিক উপলব্ধির সরল প্রকাশ হিসেবে বেশি মূল্যবান।