স্বাধীনতার ৪৩ বছর পার করেছে বাংলাদেশ। এ সময় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় সত্ত্বেও রাষ্ট্র আকারে আমাদের সার্বিক অর্জন অনেক ক্ষেত্রেই আশাপ্রদ। এ সময় দেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে, বেড়েছে মাথাপিছু আয়, দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে মানব উন্নয়ন সূচকে। বর্তমানে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ছয় শতাংশ, যে কারণে নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখছে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বাড়িয়ে এ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করতে প্রয়োজন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাংলাদেশ কি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের দিকে এগুচ্ছে? না কি জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হবে ভবিষ্যতে? যার ফলে ব্যাহত হবে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা।
আমরা দেখেছি যে, স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব সরকারই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে সাময়িকভাবে জ্বালানি সংকট নিরসনের চেষ্টা করেছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নেয়া হয় স্বল্পমেয়াদি ‘ভাড়া বিদ্যুৎ’ এর মত প্রকল্প। ‘সক্ষমতার অভাব’ Ñ একথা বলে বলে একের পর এক তেল-গ্যাস ক্ষেত্র তুলে দেয়া হয় বিদেশি কোম্পানিগুলোর হাতে। অর্থাৎ সরকারগুলো ব্যবস্থাপনার সংকটকে বানিয়ে ফেলে জ্বালানি সংকট। অথচ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রথমত প্রয়োজন ছিল নিজস্ব জ্বালানি উৎসের ওপর দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, দ্বিতীয়ত প্রয়োজন ছিল এ খাতের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা, যে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্ষম করে তুলে জাতীয় মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায়।
উপরোক্ত আলোচনাই করা হয়েছে এই গ্রন্থে। সংক্ষেপে বললে এ গ্রন্থের একটি বড় অংশ জুড়েই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার পরিণাম ও এর বিপরীতে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় এ খাতকে গড়ে তোলার গুরুত্ব ও রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে, যে রূপরেখা এদেশের দেশপ্রেমিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ছাড়াও এই বইয়ে রাষ্ট্র আকারে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস পর্যালোচনা, বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক ও বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির কতিপয় বিষয় ও কয়েকটি অনুবাদমূলক লেখার মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতির সংকট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।