বর্তমান বিশ্ব তথ্য-প্রযুক্তির বিশ্ব। জীবন উন্নয়ন ও টেকসই বিশ্ব গড়তে তথ্য প্রযুক্তির সেবা আবশ্যক। বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। সে কারণে গ্রামীণ জনগোষ্ঠির জীবনযাত্রা উন্নয়নে তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক ই-কৃষি এনে দিতে পারে নতুন সম্ভাবনা। কৃষকের চাহিদা মাফিক, সঠিক সময়োপযোগী ও আধুনিক তথ্য, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ প্রযুক্তি ইন্টারনেট, মোবাইল -এর মাধ্যমে সরবরাহ করলে তা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং দরিদ্রতা নিরসনে প্রাণিসম্পদের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ একটি সম্ভাবনাময় ও লাভজনক শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই সাথে উপযুক্ত প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং সম্প্রসারণ প্রাণিসম্পদ খাতকে আজ কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনের একটি অন্যতম প্রধান হাতিয়ারে পরিণত করেছে। দেশের বেকার জনগোষ্ঠী এবং নারীরা প্রাণিসম্পদ পালনে সম্পৃক্ত হয়ে আত্মকর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পেয়েছে। দেশের বহু পরিবার আজ কেবল দুটি উন্নত জাতের গাভী অথবা স্বল্প পরিসরে ব্রয়লার/লেয়ার মুরগি পালন করে স্বাবলম্বিতার মুখ দেখেছে। এ ছাড়াও প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও নারীর ক্ষমতায়নে প্রাণিসম্পদ খাত বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। দিলীপ কুমার চক্রবর্তীর লেখা 'আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি সম্বলিত পোলট্রি, ডেয়ারি, ফিশ ফার্মিং'। বইটিতে রয়েছে- হাঁস-মুরগি ও কোয়েল পালন, পোলট্রি ও পোলট্রিবিজ্ঞান, মোরগ-মুরগী পালন,মুরগির খামারের জন্য স্থান নির্বাচন, মুরগি পালন পদ্ধতি, মুরগির খাবার, মুরগির বাচ্চা পালন, মুরগির সাধারণ রোগ ও প্রতিকার,বার্ড ফ্লু, হাঁস পালন, হাঁসের উন্নত জাত, হাঁসের সুষম খাদ্য, বিভিন্ন জাতের হাঁস, হাঁসের রোগ ও প্রতিরোধ, কোয়েল পালন, বাংলাদেশের উপযোগী কয়েকটি উন্নত জাতের গরু,দুগ্ধ উৎপাদন খামার,উত্তম গাভী ও বলদ চেনার উপায়, গাভীর কৃত্রিম প্রজনন ও জাত উন্নয়ন,অসুস্থ গরুর পরিচর্যা ও চিকিৎসা,গো-খাদ্য,গরু মোটা,বিশুদ্ধভাবে দুধ সংগ্রহকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
Was this review helpful to you?
By Ratna Biswas, May 7, 2017
দিলীপ কুমার চক্রবর্তীর লেখা 'আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি সম্বলিত পোলট্রি, ডেয়ারি, ফিশ ফার্মিং'। বইটিতে রয়েছে- হাঁস-মুরগি ও কোয়েল পালন, পোলট্রি ও পোলট্রিবিজ্ঞান, মোরগ-মুরগী পালন,মুরগির খামারের জন্য স্থান নির্বাচন, মুরগি পালন পদ্ধতি, মুরগির খাবার, মুরগির বাচ্চা পালন, মুরগির সাধারণ রোগ ও প্রতিকার,বার্ড ফ্লু, হাঁস পালন, হাঁসের উন্নত জাত, হাঁসের সুষম খাদ্য, বিভিন্ন জাতের হাঁস, হাঁসের রোগ ও প্রতিরোধ, কোয়েল পালন, বাংলাদেশের উপযোগী কয়েকটি উন্নত জাতের গরু,দুগ্ধ উৎপাদন খামার,উত্তম গাভী ও বলদ চেনার উপায়, গাভীর কৃত্রিম প্রজনন ও জাত উন্নয়ন,অসুস্থ গরুর পরিচর্যা ও চিকিৎসা,গো-খাদ্য,গরু মোটা,বিশুদ্ধভাবে দুধ সংগ্রহকরণ,প্রজনন শক্তি রহিতকরণ (ষাঁড়কে বলদ করা),ছাগল পালন,ছাগলের জাত, ছাগলের খাদ্য, খরগোস পালন, মাছ চাষ ও মাছ চাষের প্রয়োজনীয়তা, পুকুরে বিভিন্ন প্রকারের চাষযোগ্য মাছ,মাছ চাষের পুকুর,মাছের রোগ-বালাই ও প্রতিকার ব্যবস্থা, চিংড়ির চাষাবাদ ইত্যাদি। পোল্ট্রি শিল্প হচ্ছে এমন একটি ব্যবসা যেখানে অল্প দিনে ভালো আয় করা সম্ভব। পোল্ট্রি শিল্পের মাধ্যমে পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে শহর, উপ-শহর এবং গ্রামেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পোল্ট্রি শিল্প গড়ে উঠছে। বাড়ির গৃহিণীরা খামার স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারে। পারিবারিক এই খামারে ডিম পাড়া মুরগি ছাড়াও ব্রয়লার মুরগি চাষ করা যায়। এ অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে বাণিজ্যিক খামার প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগে।আমাদের দেশে প্রাণীজ আমিষের অভাব খুবই প্রকট। আমিষের এ অভাব মেটাতে মুরগি পালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান বিশেষ জরুরী। খুব অল্প সময়ে অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে সাম্প্রতিক সময়ে মুরগি পালন একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় কৃষি শিল্প হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। পোল্ট্রি মাংস, ডিম, পালক, সার, পশুখাদ্য ও ঔষধ তৈরির উপকরণের মত অর্থনৈতিকভাবে মূল্যবান দ্রব্য উৎপাদনকারী গৃহপালিত পাখি। মুরগি, হাঁস, রাজহাঁস, গিনি মুরগি, কোয়েল, কবুতর, ফেজেন্ট, এবং টার্কি সাধারণত পোল্ট্রি পাখি হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব পাখি আবদ্ধ পরিবেশে প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি করতে পারে।