চার্লস ডারউইন সাহেব, বই আকারে প্রকাশের উদ্দেশ্যে নিজের আত্মজীবনী লেখেননি, লিখেছিলেন নিজের আনন্দ আর নাতি-নাতনিদের কৌতৃহল মেটাতে । ১৮৭৬ সালের মে থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে আত্মজীবনীর মূল লেখা শেষ করেন তিনি । এ সময়ে সাধারণত প্রায় প্রতি বিকালে এক ঘন্টা সময় আত্মজীবনী লিখতেন। এ তথ্য আত্মজীবনীতে লিখে গেছেন ডারউইন | এ সময় তিনি মোট ১২১ পৃষ্ঠা লিখেছিলেন । পরবর্তী ছয় বছর অর্থাৎ জীবনের শেষ ছয় বছরে এ মূল লেখার সঙ্গে আরও ৬৭টি পৃষ্ঠা নতুন লেখা যুক্ত করেন তিনি। ডারউইনের আত্মজীবনীর ম্যানুস্ক্রিপ্ট ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। এই বইতে তার পারিবারিক স্মৃতি, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, বিগল যাত্রা, ধর্ম সম্পর্কিত ভাবনা, বন্ধুদের স্মৃতি, সমসাময়িক বিজ্ঞানীদের মূল্যায়নসহ আরো বিষয় আলোচিত হয়েছে। বই পড়ে আমার মনে হয়েছে, বাইবেলের বিকৃতি সম্পর্কে জানা, বাইবেলের ধর্মতত্ত্বে জটিলতা-স্ববিরোধীতা, প্রবলেম অফ ইভিলসহ আরো কিছু দার্শনিক সমস্যার কারণে ভিক্টোরিয়ান ইউরোপের সমাজের সাথে তাল মিলে এমন ধারনা থেকে তিনি বিবর্তন তত্ত্ব প্রস্তাব করেছিলেন। সেকুলার সমাজ তৈরিতে এই তত্ত্বকে হাক্সলি মাঠে নিয়ে আসেন। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত সেক্যুলার সমাজের অন্যতম অনুসঙ্গ ডারউইন সাহেবের তত্ত্ব। সাম্প্রতিক ও আদি, উভয় গবেষণাতেই ডারউইনের মত ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বইয়ের ছাপা, বাধাই ভালো। অনুবাদ খারাপ না।