প্রতিবাদী মানুষ ছিলেন আহমদ
ছফা। সব অসংগতির বিরুদ্ধে
প্রতিবাদী এক দৃপ্ত কণ্ঠস্বর। তাঁর
মধ্যে যেন ঐশ্বরিক কিছু ছিল।
দৃঢ়বিশ্বাস ছিল ইতিহাস এবং
অমানবিক অবস্থান থেকে
এদেশকে উত্থিত হতে হলে
প্রয়োজন পুনর্জাগরণের। নইলে
রাজনীতি তো বটেই, আমাদের
প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ড ভণ্ডুল হবে
অশ্লীল কূপমণ্ডূকতায়, ঈর্ষায় আর
খুনোখুনিতে। এমন পুনর্জাগরণের
প্রচেষ্টায় ছিলেন জীবনভর।
Was this review helpful to you?
By iqbal mahfuj, Feb 28, 2015
বাংলাদেশের জন্ম-বিকাশের নানা প্রেক্ষিত এ দেশে খোলসা হওয়ার পথটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। এটি ছিল সামাজিক-রাজনৈতিক চক্রান্ত। সাহিত্যেও যে বাংলাদেশের জন্ম-বিকাশ নিয়ে কাজের প্রযত্ন-চর্চা হয়েছে তা বলা যায় না। বরং সমাজের অপরাপর শাখার মতো সাহিত্যে এক ধরনের হালকা কাজের পৃষ্টপোষতার পাল্লাই ভারী। আহমদ ছফার মতো একজন শতভাগ দেশপ্রেমিক সাহিত্যিককেও ‘নৈঃশব্দ্যের-চক্রান্তে’ বন্দি থাকতে হয়েছে। মৃত্যুর পর অপেক্ষাকৃত তরুণদের মাঝে আহমদ ছফা-চর্চার ধারাটি আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ২০০১ সালে তিনি শরীরী বিদায় নেন। অল্প সময়ের মধ্যে আহমদ ছফাকে নিয়ে ১০টি বই লিখিত হয়। বাংলা সাহিত্যের জন্য বেশ তাত্পর্যজনক বিষয় হলো, আহমদ ছফার সামগ্রিক জীবনের ওপর তরুণ প্রজন্মেরই এক প্রতিনিধি ‘গাজী তানজিয়া’ একটি উপন্যাস লিখেছেন। উপন্যাসটির নাম ‘কালের নায়ক’। তিনি সমাজতাত্ত্বিকের দৃষ্টিকোণ থেকে টোটাল আহমদ ছফাকে প্রথম মস্তিষ্কের সীমায় নিয়েছেন। অতপর আহমদ ছফার নানামুখী জীবনকে একটি কাহিনির ফ্রেমে এনেছেন। জীবিত থাকাকালীন আহমদ ছফাকে নিয়ে এ দেশের কথিত প্রতিষ্ঠিতরা তেমন কিছু না লিখলেও মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে ২০টির মতো ক্রোড়পত্র এবং বই প্রকাশিত হয়েছে। ওই ২০টি বইয়ে আহমদ ছফাকে নিয়ে যত তথ্য এবং মূল্যায়ন রয়েছে গাজী তানজিয়া তাঁর উপন্যাস ‘কালের নায়কে’ সেসবের সমাবেশ করতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছেন। জীবনীমূলক উপন্যাস লেখার যে প্রাক-প্রস্তুতি থাকতে হয় ঔপন্যাসিক গাজী তানজিয়া সেই প্রস্তুতির অধিকাংশটুকু মাথায় নিয়েই উপন্যাসটি লিখেছেন।