প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশে প্রচুর জলাশয়, খাল বিল, হাওড় বাওড়, নদীনালা বিদ্যমান যেখান থেকে আমরা প্রায় সারা বৎসর পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ পেয়ে আসছি এবং যা আমাদের প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদা পূরনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের দ্রুত বর্ধণশীল জনসংখ্যার প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করার জন্য মাছের বর্তমান উৎপাদনকে আরো অনেক বৃদ্ধি করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ছোট বড়, মজা-উর্বর, পতিত সব জলাশয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাছ চাষের আওতায় আনা। অথচ শুধুমাত্র সচেতনতার অভাবে কিংবা উপযুক্ত জ্ঞান, দক্ষতা, তথ্য ও প্রযুক্তির অভাবে আমাদের সব জলাশয়কে মাছ চাষের আওতায় আনা যাচ্ছে না। আবার চাষের পুকুরে যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতার অভাবে এবং আহরণ পরবর্তী ব্যবস্থাপনার দূর্বলতার কারণে খামারীরা প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক চাষি নিয়মিত খাবার সরবরাহ করার পরিবর্তে মাঝে মাঝে ও অনিয়মিতভাবে খাবার সরবরাহ করে থাকেন। এভাবে খাবার সরবরাহ করলে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া অনেক চাষি অসময়ে আবার কেউ কেউ ইচ্ছেমত খাবার দিয়ে থাকেন বলে মাছের সুষম বৃদ্ধি হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রে খাবারের অপচয় হয়ে থাকে। অর্থাভাবে চাষের মাঝামাঝি সময়ে খাবার সরবরাহে ব্যর্থ হলে চাষি লাভবান হতে পারে না। তাছাড়া মাছ খাদ্য খাচ্ছে কি না তা অনেক চাষি লক্ষ্য করেন না। খাদ্য হিসেবে মাছের গুরুত্ব অনেক। মাছ চাষে খরচের তুলনায় আয় বা লাভ হয় দ্বিগুন অথবা তারও বেশি। মাছ চাষ করে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনা সম্ভব। আবার বিদেশে মাছ রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।