12 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 350TK. 319 You Save TK. 31 (9%)
“প্রিয়তম ফ্রাউলি বাউয়ার,...আপনার চিঠি আজ মেঘের বুক চিরে আমার ওপর পুষ্পবৃষ্টির মতো ঝরছে। এ হলো সেই চিঠি, যে-চিঠির জন্যে আমি অধীর আগ্রহ, উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা নিয়ে গত তিন সপ্তাহ ধরে অ
বিগত শতাব্দীর সবচেয়ে আলোচিত কথাসাহিত্যিক সম্ভবত জার্মানভাষী ফ্রানৎস কাফকা। বলা হয়ে থাকে, আধুনিক সাহিত্যের সূচনা হয়েছিল তার লেখা দিয়েই। নতুন নতুন ভাবনা ও জীবনযাপনের জটিলতা নিয়ে গল্প এবং বর্ণনার অভিনবত্ব কাফকাকে করেছে জগৎখ্যাত; তার রচনা প্রভাবিত করেছে বিশ্বসাহিত্যকে। মানুষের জীবনকে যিনি প্রাজ্ঞ দৃষ্টি নিয়ে ছিঁড়েখুঁড়ে দেখছিলেন, সেই কাফকার জীবনই ছিল নানা সংকটে দীর্ণ, রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত। বিশেষ করে প্রেম তার জীবনকে কখনোই স্থিতি দেয়নি। কেউ কেউ অবশ্য কথাটাকে ঘুরিয়ে বলতে পারেন, প্রেমের জন্য আজীবন তৃষ্ণার্ত ছিলেন তিনি; কিন্তু সেই প্রেম কখনোই তাকে প্রশান্তি দেয়নি। যে-ক'জন নারীর সঙ্গে তার মধুর হাদ্রর্িক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল, তাদের মধ্যে ফেলিস বাউলার ও মেলিনা য়েসেনস্কা অন্যতম। অনেকটা আবেগতাড়িত, মোহগ্রস্তের মতো ফেলিসের প্রেমে পড়েছিলেন কাফকা। আর মেলিনার সঙ্গে মানসিক দিক থেকে কাছাকাছি হওয়ার ফলে বুদ্ধিদীপ্ত এই নারীর সঙ্গে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তা ছিল মূলত বৌদ্ধিক।
অধ্যাপক মাসুদুজ্জামানের ভূমিকা ও ভাষান্তরে 'কাফকার প্রেম :ফেলিস ও মেলিনার কাছে একগুচ্ছ প্রেমপত্র' বইটিতে ফ্রানৎস কাফকার প্রেমিকজীবনের নানা উত্থান-পতন, আনন্দ-বেদনা-অস্থিরতার বাস্তব চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাঠকমাত্রই অভিভূত হতে পারেন ফ্রানৎস কাফকার অবিস্মরণীয় এসব প্রেমপত্রে গচ্ছিত প্রেমময়তা পড়তে পড়তে।
বইটি মোট পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিভাজিত। প্রথমেই আছে 'কাফকার প্রেম :জীবনের শিখা ও অশ্রুবিন্দু'। এ অংশে অনুবাদক ফ্রানৎস কাফকার প্রেমজীবনের সংক্ষিপ্ত একটি রূপ পাঠকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যে দুই প্রেমিকার সঙ্গে চিঠি আদান-প্রদানের কথা এ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে এবং যাদের কাছে লেখা চিঠিগুলো স্থান পেয়েছে, সেই ফেলিস ও মেলিনার সম্পর্কে কিছু কথা আছে এখানে। দ্বিতীয় অংশটির শুরুতেই লেখা আছে, 'প্রিয়তম ফ্রাউলি বাউয়ার, ...আপনার চিঠি আজ মেঘের বুক চিরে আমার ওপর পুষ্পবৃষ্টির মতো ঝরছে। এ হলো সেই চিঠি, যে চিঠির জন্যে আমি অধির আগ্রহ, উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা নিয়ে গত তিন সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করছি।' এই দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি হলো 'কাফকা ও ফেলিসের প্রেমকথা', তার পরেই আছে 'ফেলিস বাউলারকে লেখা কাফকার প্রেমপত্র'। চতুর্থ পরিচ্ছেদে তেমনি আছে 'কাফকা ও মেলিনার প্রেমকথা' এবং তার পরের ও শেষ পরিচ্ছেদে তাদের চিঠি।
ফেলিসকে লেখা কাফকার একটি চিঠিতে আছে, "খুব সম্ভবত আমার কথা আপনার মনে নেই। তাই ফের আমি আমার পরিচয়টুকু দিয়ে রাখছি। আমার নাম ফ্রানৎস কাফকা। ...শুনতে যতই খারাপ লাগুক আর না-ই লাগুক, আমার অসুস্থ মনের ছবি ফুটে উঠুক আর না-ই উঠুক, অবশ্যই স্বীকার করব যে আমি এক অস্থির চিত্তের পত্রলেখক। ...দিনকে দিন আমার যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থেকে প্রবলতর হয়ে উঠছে। যাই হোক, বুধবার কি বৃহস্পতিবার আমি তোমাকে একটি টেলিগ্রাম পাঠাচ্ছি। তাতে হয় 'আমরা যাচ্ছি' এই সুন্দর কথাটি লেখা থাকবে, নয়তো লেখা থাকবে 'না'_ এই বাজে শব্দটি।"
ফেলিস ও মেলিনাকে লেখা চিঠিগুলো থেকে তাদের প্রেমের উন্মেষ, বিকাশ ও পরিণতি সম্পর্কে যেমন ধারণা পাওয়া যায়, ঠিক তেমনি কাফকার লেখকসত্তা সম্পর্কেও ধারণা লাভ করা যায়। কালজয়ী এই লেখকের প্রেমজীবনের এমন বাংলা রূপ পাঠককে মুগ্ধ করতে প্রস্তুত।