২০০৬ সালের কথা। চীন জাতীয় টেলিভিশনের আমন্ত্রণে দুই সপ্তাহের ভ্রমণে চীন গিয়েছিলেন লেখক। সেই ভ্রমণের নানা দিক এর আগে দুটি গ্রন্থে দু'ভাগে প্রকাশ পেয়েছিল বিগত দুই বছরের একুশে বইমেলায়। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে শাকুর মজিদের চীন ভ্রমণের অপ্রকাশিত কথামালা 'নাশি পাড়া লিজিয়াং' শিরোনামের গ্রন্থে। ইউনান প্রদেশের লিজিয়াং, দালি এবং কুনমিং সফরের ইতিবৃত্ত নিয়ে এই প্রামাণ্য গ্রন্থটি তিনভাগে বিভক্ত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এসব অঞ্চলের মানুষদের জীবনাচার নিয়ে লেখকের বর্ণনা ভ্রমণপিপাসুদের মনের খোরাক জোগাবে। ইউনান প্রদেশে চীনের অধিকাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের বসবাস। লিজিয়াংয়ে 'নাশি' জাতি, দালিতে 'বাই' জাতি, মুসলিম চৈনিক 'হুই' জাতি, কুনমিংয়ের 'ই' জাতিদের নিয়ে সচিত্র আলোচনাগুলো সরস এবং ভ্রমণের আনন্দে ভরপুর। তিনটি অনুচ্ছেদে এসব জাতির জীবনাচার, তাদের ভাষা এবং সংস্কৃতি নিয়ে বিভিন্ন শিরোনামে প্রকাশিত রচনাগুলো পাঠের পাশাপাশি ছবি দেখে আঁচ করা যাবে এই দূরদেশের তৎকালীন সামাজিক অবস্থাও। এসব অঞ্চলের মানুষদের সঙ্গে কথা বলে লেখক বুঝতে চেয়েছেন তাদের জীবন এবং সংস্কৃতিকে। এই অঞ্চলের মানুষদের ধর্মীয় অনুভূতি এবং তাদের ধর্মীয় আচরণের নানা দিকের বর্ণনাও উল্লেখযোগ্যভাবে স্থান পেয়েছে প্রকাশিতব্য এই গ্রন্থে। কাব্যিক বর্ণনার পাশাপাশি বিভিন্ন মুহূর্ত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরা পড়েছে লেখকের তোলা ছবিগুলোতে। গ্রন্থ পাঠে লেখকের চোখ দিয়ে দেখা চীনের এই অঞ্চলগুলো দেখাতে না পারার অভাববোধ মিটে যাবে অনেকাংশে।পাঠক যারা ভ্রমন কাহিনী পড়তে পছন্দ করেন তাদের কাছে বইটি বেশ উপভোগ্য হবে তাই মিস করবেন না।