বিজ্ঞান এবং সাহিত্য সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর বস্তু; দুয়ের সম্মিলন ঘটিয়ে দিলেন দুঃসাহসী অভিযাত্রী আলী হাসান- গল্পে গল্পে জ্যোতির্বিজ্ঞান বইয়ে। বিজ্ঞান এখনো বাংলাদেশের শিার্থী-শিকসহ অনেকের কাছেই ভীতির নাম। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথে যা কিছু ওতপ্রোতভাবে জড়িত- তা বিজ্ঞানেরই অবদান। বিজ্ঞান গতি দিয়েছে, মানুষের জীবনধারা পাল্টে দিয়েছে, দিচ্ছেও। আজকের স্বাচ্ছন্দ্যময়-সহজ জীবনযাপনে বিজ্ঞানের অবদান অনস্বীকার্য।
বাংলাদেশে বিজ্ঞানচর্চার প্রসার ঘটেনি; কিন্তু ব্যক্তিজীবন, জাতীয় অগ্রগতির জন্য বিজ্ঞান জানা ও বোঝা-টা খুবই জরুরি। দুঃখজনক হলেও সত্য- বিজ্ঞান বিষয়ে সরকারি উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেই, ব্যক্তি উদ্যোগও অনেকাংশে অনুপস্থিত। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে বিজ্ঞান মজাদার বিষয় নয়- আতঙ্ক।
এ বইয়ে গল্পের ছলে জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছেন লেখক। ফলে ‘নিরস, নিরেট’ বিজ্ঞানও হয়ে উঠেছে মজাদার, আকর্ষণীয়। স্কুলপড়–য়া কিশোরী ছোকানো-কে তার অধ্যাপক মামা জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞান দেয়ার পাশাপাশি উত্তর দিয়েছেন কৌতূহলী মনের অনেক প্রশ্নের।
সাহিত্য এবং বিজ্ঞান সাংঘর্ষিক নয়; তবু দুয়ের মিলন সহসা ঘটে না। আলী হাসান কীভাবে ঘটিয়ে দিলেন অভূতপূর্ব মিলন! লেখক ইতোমধ্যে হাত পাকিয়েছেন গল্প এবং কবিতায়। গল্পকার বলেই বিজ্ঞানেও নিয়ে আসতে পেরেছেন সাহিত্যের আঙ্গিক- বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো উপস্থাপন করতে পেরেছেন গল্পকথায়।
বইটি শুধু ছোটদেরই নয়- বিজ্ঞানমনস্ক, বিজ্ঞান অনুসন্ধিৎসু সবার। জ্যোতির্বিজ্ঞান জানার পাশাপাশি সাহিত্যরসটুকু ‘এমনি এমনি’ই পাওয়া যাবে!