সাহিত্য মানেই শুধু ছড়া কবিতা কিংবা গল্প-উপন্যাসের বিনোদন নয়, তার বিশাল ক্ষেত্র রয়েছে। নতুন প্রজন্মের জন্যে যিনি সাহিত্যে জ্ঞানের বৃহত্তর দুয়ার খুলে দেয়ার প্রয়াস পেয়েছেন, তিনি আর কেউ নন, এক নিঃসঙ্গ অভিযাত্রী ভবেশ রায়। তাঁর হাতে সাহিত্যের একটি শাখার বিস্তৃতি ঘটেছে। বিশ্বের বৃহত্তর জগৎ থেকে সংগৃহীত তথ্য নিয়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন এক নতুন ধারার সাহিত্য। ভবেশ রায় রচিত নলেজপিডিয়া (১-৪), মমিপিডিয়া, ডাইনোপিডিয়া, রোবোপিডিয়া এবং জীবনীগ্রন্থ শত মনীষীর কথা তারই প্রকৃষ্ট প্রমাণ। এ ধারাতে তিনি একটি নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। দিনে দিনে তাঁর এই নিজস্ব বলয়ের পরিধি যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে তাঁর পাঠকপ্রিয়তাও।
যুগ যুগ ধরে মনীষীদের জীবন জিজ্ঞাসার সঠিক উত্তরইতো আমাদের সভ্যতা বিকাশের ইতিহাস। এঁরাই সভ্যতার চাকাকে এগিয়ে নিয়ে এসেছেন মহাকালের গতিধারার পথে। হাজার হাজার বছর ধরে সভ্যতার উষালগ্ন থেকে বর্তমান একবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত যে-সব প্রাতঃস্মরণীয় মনীষীদের অবদানে পৃথিবী হয়েছে ঋদ্ধ, তাঁদের মহিমান্বিত জীবনাদর্শকে আগামী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে যে দুরূহ কাজ ভবেশ রায় করেছেন, তা অভূতপূর্ব।
শত মনীষীর কথা (১ম-৫ম খণ্ডে), মোট ৫০০ মহামনীষীর জীবনালেখ্য বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। এই সিরিজেরই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ শত বাঙালি মনীষীর কথা এবং বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শত বিজ্ঞানীর কথা শুধু তাঁদের কর্মময় জীবন আলোচনা, তথা জন্ম-মৃত্যুর সাল তারিখের ঘটনাই সাজানো হয়নি। তার সঙ্গে ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপটও পর্যালোচিত হয়েছে। এই পর্যালোচনার মধ্যে দিয়েই সেই যুগের সমাজচিত্রও তুলে ধরা হয়েছে বিদগ্ধ পাঠকের জন্যে। যে কোন মহাপুরুষের আবির্ভাব ও তিরোধান সেই যুগকে অতিক্রম করে-সেই দেশ, সমাজ ও জনগোষ্ঠীকে যুগান্তরের পথিক করেছে।
ভবেশ রায়। নতুন প্রজন্মের জন্য সাহিত্য ও বিজ্ঞানের বৃহত্তর দুয়ার খুলে দেওয়ার প্রয়াস পেয়েছিলেন তিনি। এ পথে তিনি এক নিঃসঙ্গ অভিযাত্রী। বিশ্বের বৃহত্তর জগৎ থেকে তুলে আনা তথ্য দিয়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন এক নতুন ধারার সাহিত্য।
ভবেশ রায়ের জন্ম ১৯৪৭ সালের ৮ জুলাই। ঢাকা জেলার ধামরাই থানার বাইশাকান্দা গ্রামে। শিক্ষাজীবন শুরু গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মাধ্যমিক-কুশুরা আব্বাস আলী হাই স্কুল: উচ্চ মাধ্যমিক করটিয়া সা'দত কলেজ; স্নাতক জগন্নাথ কলেজ; স্নাতকোত্তর (বাংলা সাহিত্য) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবনের শুরু ১৯৭২ সালে। অধুনালুপ্ত 'দৈনিক সমাজ' পত্রিকার ফিচার এডিটর ছিলেন। ১৯৭৪ সালে সমবায় কর্মকর্তা (জনসংযোগ কর্মকর্তা) হিসেবে যোগদান। ১৯৯৬ সালে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরগ্রহণ।
স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখির শুরু। প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক 'হিতবাদী' পত্রিকায় ১৯৬২ সালে। প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
বর্তমানে সার্বক্ষণিক লেখালেখিতে নিয়োজিত। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দেড় শতাধিক। কিশোর বিজ্ঞান ও জীবনী সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক। তাঁর রচিত শত মনীষীর কথা ও নলেজপিডিয়া (১-৪), পিডিয়াসমগ্র গ্রন্থমালা তারই প্রকৃষ্ট প্রমাণ।
ভবেশ রায় রচিত শত মনীষীর কথা (১ম-৫ম খণ্ড) জীবনী সাহিত্যে একটি বিশেষ সংযোজন এবং একক প্রয়াসে বৃহত্তম কাজ।
লেখক হিসেবে তিনি অনেক সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।