নজরুল ইসলামের লেখা ’মৎস কথা’। বইটিতে মাছ চাষের সার্বিক বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি এ্যাকুরিয়ামে মাছ চাষ, চৌবাচ্চায় মাছ চাষসহ নানাবিধ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গ্রামের অনেক নারী শাক-সবজির পাশাপাশি মৎস্য চাষ করে। মৎস্য চাষ ছোট হলেও অনেক সাফল্য ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। পুকুরে তিন মাসের মধ্যে বড় হয় এরকম মাছের চাষ করে,পারিবারিক চাহিদা পূরণ করছে। অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলজ জীব, যেমন মাছ, চিংড়ি, সামুদ্রিক আগাছা, কাঁকড়া ইত্যাদি সামগ্রিকভাবে মৎস্য সম্পদ বলে। পুরাতন পুকুরকে মাছ চাষের উপযোগী করার জন্য পুকুর পানি নিষ্কাশন, তলদেশের পঁচা কাদা সরিয়ে ফেলা, চুন প্রয়োগ, সার প্রয়োগ, পুনরায় পানি প্রবেশ করানো, পোনা মজুদকরণ ইত্যাদি কাজগুলো পর্যায়ক্রমে অনুসরণ করতে হবে। পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে পুকুরের আগাছা ভালভাবে পরিষ্কার করা, অবাঞ্চিত প্রজাতি দরকরা, চুন, সার প্রয়োগ করা, পোনা মজুদ করা ইত্যাদি কাজগুলো পর্যায়ক্রমে করতে হবে। প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি সম্পূরক খাবার মাছের উৎপাদন বাড়াতে যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই স্বল্প সময়ে স্বল্পায়তনের জায়গা থেকে মাছের অধিক ফলন পেতে সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ অত্যাবশ্যক। মাছের সম্পূরক খাদ্য তৈরির জন্য সচরাচর ব্যবহারযোগ্য উপাদানগুলো হচ্ছে চালের কুঁড়া, গমের ভুসি, সরিষার খৈল, তিলের খৈল, ফিশমিল, গরু-ছাগলের রক্ত, নাড়িভুঁড়ি, রেশম কীট এবং জলজ উদ্ভিদ যেমন, কচুরিপানা, খুদেপানা, কুটিপানা ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, সুষম খাদ্য তৈরির জন্য সাধারণত মোট খাদ্যের ০.৫-২% ভিটামিন ও খনিজ মিশ্রণ প্রয়োজন হয় এবং খাবার বেশি সময় স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে বাইন্ডার হিসেবে আটা, ময়দা অথবা চিটাগুড়ের ব্যবহার অতীব জরুরি বিবেচনা করা হয়ে থাকে। বইটি যে কোন পাঠকের জন্য সহজবোধ্য।