ভ্রমণ মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। ভ্রমণপিপাসু মন তাকে নিয়ে যায় দেশ থেকে দেশান্তরে। কেউ দেখেন মুগ্ধ দৃষ্টিতে, ডোবেন ভাবনার অতলে। নেন ভিনদেশী ব্যঞ্জনের স্বাদ, মাতেন শখের কেনাকাটায়। কাফি কামাল কেবল নিজে দেখেন না, দেখান অন্যদেরও। তার চিত্ররূপময় বর্ণনায় বাক্সময় হয়ে ওঠে দিল্লি-আগ্রার মোগল ও জয়পুরের রাজপুতানা স্থাপত্যের পাথুরে সৌকর্য, দরদালানের শিল্পিত কারুকাজ। মনের বীণায় অনুরণন তোলে উত্তর-দক্ষিণ ভারতের লীলাময় নিসর্গের অনন্য রূপ-মাধুর্য, এমনকি ধূসর প্রকৃতিও। মহল থেকে মন্দির নানা আকর্ষণীয় স্থান ঘুরে দেখতে দেখতে পাঠকদেরও অবলীলায় করে নেন ছায়াসঙ্গী। নিয়ে যান ঐতিহ্যের গভীর শেকড়ে, ইতিহাসের বর্ণিল অলিগলিতে। কুতুব মিনার থেকে কন্যাকুমারীর সুদীর্ঘ পথযাত্রায় তিনি পাঠকদের ঘুরিয়ে আনেন এক মায়াময় স্বপ্নাচ্ছন্নতায়। পাঠক কখনও রাজস্থানের ধুলোওড়া রাস্তায় পাশাপাশি হাঁটবেন ঘোমটা টানা রমণীর, দেখবেন দিল্লির ব্যস্ত সড়কে মোটর বাইক হাঁকিয়ে ছুটে যাচ্ছে সংস্কারের আগল ভাঙা তরুণী। হারিয়ে যাবেন অন্ধ্র প্রদেশের সারি সারি তাল, তিল্লি-মুল্লের বিস্তীর্ণ অরণ্যে। চোখে মুখে ঝাপটা দেবে কন্যাকুমারীর ত্রিসমুদ্রের নোনা হাওয়া। কাফি কামাল তার লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন বর্ণিল প্রকৃতি ও স্থাপনার সৌন্দর্য, উপাসনালয়ের পবিত্রতা, ব্যঞ্জনের স্বাদ, নানা শ্রেণী-পেশা-বর্ণের মানুষের আচার-আচরণ আর চলতি পথের খুঁটিনাটি।