মো: নূরুল হুদা আল মামুনের লেখা ’বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় কৃষি’।প্রাচীনকাল থেকেই কৃষি বাঙালির জীবিকার উৎস। উপমহাদেশের অন্যান্য অংশের অবস্থাও প্রায় অভিন্ন। কিন্তু প্রায় গোটা বাংলা পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতসহ তিনটি প্রধান নদী পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা এবং তাদের অসংখ্য শাখাপ্রশাখা প্রসারিত পলিগঠিত সমভূমি হওয়ার দরুন প্রাচীনকাল থেকেই এখানে কৃষিকাজ অপেক্ষাকৃত সহজ ছিল এবং এখানে কৃষির ওপর জনসংখ্যার চাপ ছিল অত্যধিক। ব্রিটিশ শাসনামলের গোড়ার দিকে শিল্পকর্ম, বিশেষত সুতিবস্ত্র উৎপাদন হ্রাসের ফলে এ চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। বস্ত্তত ১৯২১ সালের মধ্যে মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় চার-পঞ্চমাংশ (৭৭.৩%) কৃষিনির্ভর হয়ে পড়ে, যা সমগ্র ভারতে ছিল ৬৯.৮%। ব্রিটিশ আমলে জনসাধারণ বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণিভুক্ত ছিল একদিকে বিভিন্ন পর্যায়ের খাজনা আদায়কারী ভূমিমালিক (জমিদার) ও নানা ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী, অন্যদিকে রায়ত, বর্গাদার ও ক্ষেতমজুর। তবে রায়তরাই চাষাবাদে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। বাংলার দু অংশের মধ্যে বর্তমান বাংলাদেশ হিসেবে পরিচিত ভূখন্ডেই কৃষির ওপর জনসংখ্যার চাপ ছিল প্রকট। অঞ্চল বিশেষে কৃষি কার্যক্রমে ব্যবহূত বিভিন্ন জীবসম্পদ। এদেশের গোটা ভূভাগ প্রধানত বদ্বীপ দ্বারা গঠিত। উপমহাদেশের নানা সামাজিক-বাস্ত্তসংস্থানিক অবস্থান থেকে, এমনকি বিশ্বের অন্যান্য মহাদেশ থেকেও এদেশে মানুষের আগমন ঘটেছে। শত শত বছর যাবৎ এখানকার মানুষ প্রায় ৮৫ ধরনের কাজে ১৩৬৪ প্রজাতির দেশী-বিদেশি উদ্ভিদ চাষ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করে আসছে। এদেশে প্রায় ১৭৫ প্রজাতির ভেষজ উদ্ভিদ জন্মে। শতকের পর শতক বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন মানবগোষ্ঠী উৎপাদন প্রক্রিয়া ও ব্যবহার সাপেক্ষে তাদের চাহিদা অনুযায়ী জীববৈচিত্র্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে আসছে। প্রায় ৮-১০ হাজার বছর ধরে এ অঞ্চলের বাসিন্দারা পর্যাপ্ত পরিমাণে ধান, পাট, আখ, তুলা, তিসি, সরিষা, শসা, শিম, লাউ, কলা, আম, বেল, বেগুন, শাকসবজি, জাম, হরীতকী, আমলকি, বহেড়া, আদা, হলুদ ইত্যাদি নিজেদের পছন্দ মতো উৎপাদন করছে। পরিবারের মহিলারাও নিজেদের প্রয়োজনে বসতবাড়িতে এবং ক্ষেতজমিতে যথেষ্ট পরিমাণে সময়োপযোগী উদ্ভিদের চাষ ও সেগুলি রক্ষণাবেক্ষণ করে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন পেশাজীবী পরিবারে তৎকালীন অর্জিত ভেষজবিদ্যার চর্চা আজও টিকে আছে।
Was this review helpful to you?
By Melan Ahmed, Feb 27, 2014
I found it a very nice and useful data bank on current agriculture of Bangladesh.Writer focus here the current phenomena of rising agriculture of Bangladesh. Many items and possibilities on Bangladesh agriculture are highlighted by writer in this book. I strongly wish its extension in the different corner in Bangladesh agriculture.