খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ থেকে চতুর্থ শতাব্দী সময়কালের মধ্যে প্রাচীন ভারতবর্ষে বিদ্যমান ষোলটি প্রধান রাজ্য বা প্রজাতন্ত্রকে নিয়ে গড়ে উঠেছিল ষোড়শ মহাজনপদ। এই ষোলটি রাজ্য হলো —মগধ, অঙ্গ, কাশী, কোশল, বৃজি (বজ্জি), মল্ল, চেদি, বৎস, কুরু, পাঞ্চাল, মৎস্য, সুরসেন, অশ্মক, অবন্তী, গান্ধার, এবং কম্বোজ। মূলত উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এই মহাজনপদগুলি বিস্তৃতি ছিল বর্তমান বিহার, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে। ইতিহাসের দর্পণে ফিরে তাকালে দেখা যাবে ভারত ইতিহাসে এই সময়কাল বোধহয় আর আসেনি কখনো। অজস্র পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে রাজনীতিতে, দেখা গেছে প্রবল রাজতন্ত্রের সঙ্গে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে ছোট ছোট গণ রাজ্য, সংঘ রাজ্য, কনফেডারেশন—যা বিস্ময় জাগায়। এই সময়কালে ভারতবর্ষ দেখেছে দুই মহামানবকে—গৌতম বুদ্ধ এবং মহাবীর—শ্রমণ সংস্কৃতির দুই পুরোধা। এই মহামানবদের দর্শন আমাদের এখনো আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে রেখেছে। সেই যুগসন্ধিক্ষণ কতোনা যুদ্ধ, বিগ্রহ, ভালোবাসার সাক্ষী—কত চরিত্র, কত নাম ইতিহাসের পাতায়, সৃষ্টি হয়েছে কত ধরনের সাহিত্য—যার প্রভাব থেকে ভারত বর্ষ সহ মুক্ত হতে পারেনি গোটা পৃথিবী। ভারত ইতিহাসের এক বর্ণময় যুগকে ফিরে দেখা যাবে লেখক দীপান ভট্টাচার্যের লেখনীতে 'ষোড়শ মহাজনপদ : ভারত ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণ' শীর্ষক গ্ৰন্থে। 'প্রজ্ঞা পাবলিকেশন' থেকে প্রকাশিত উক্ত গ্ৰন্থে সহজ সরল ভাষায় আলোচনা করেছেন এই ষোড়শ মহাজনপদের প্রত্যেকটি মহাজনপদের উৎস, তাদের ব্যাপ্তি এবং তাদের প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে। বিশ্লেষণ করা হয়েছে সেই সময়কার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মননের ক্ষেত্রে যে বিপ্লব এসেছিল তা নিয়ে।