একাত্তর পরবর্তী কোনো সরকার-ই সাম্য ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়নি। যখন রাজনৈতিক দল ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয় তখন জনগণ সেই রাজনৈতিক দলের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে। আমাদের রাজনীতিবিদরা যারা জনগণের প্রতিনিধি হয়ে পার্লামেন্টে যায়, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা ভুলে যায় জনগণই সকল ক্ষমতার অধিকারী। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাতীয়তাবাদী বিএনপি, এবং জাতীয় পার্টি সরকার গঠন করেছে। এই রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতায় যাওয়ার আগের চিত্র এবং পরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। আমরা দেখলাম ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শেখ হাসিনার স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এলো। প্রথমে কোটা সংস্কারের আন্দোলনের ব্যানারে ছাত্ররা রাজপথে একত্রিত হল। ষোল বছরের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ রাজপথে দৃশ্যমান হতে দেখা গেল। জুলাইয়ের রাজপথের চিত্র ছিল এমন; যার যা ছিল তাই নিয়ে তারা ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। ১৬-ই জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ শহীদ হলেন। আবু সাঈদ হত্যার বিচারের দাবিতে দেশের মানুষ স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলো। ছাত্র জনতা বুলেট ও ট্যাঙ্কারের সামনে দাঁড়িয়ে গেল। স্বৈরাচারী হাসিনার রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন করা হলো; আমার ভাইদের মারলি কেন? সারা দেশের দেয়ালে দেয়ালে লেখা হল হাসিনার স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিপ্লবী স্লোগান। প্রতিটি দেয়াল লিখনীতে রয়েছে একটি নীরব বিপ্লবের গল্প; একটি রক্তাক্ত ইতিহাস।
When Dictatorship is a fact, Revolution becomes a right!
ষোল বছরের ফ্যাসিবাদ যেন ১৬০০ বছরের চেয়ে লম্বা হয়ে উঠেছিল। হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়া, মোবাইল ট্রাকিং করে আন্দোলনকারীদের হত্যা, অথবা ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে রাতের আধাঁরে ছাত্র জনতার উপর নিপীড়ন, তাদের ভীত-সন্ত্রস্ত করতে পারেনি। বিপ্লবের দিন গুলোতে ছাত্রজনতা যতই ৩৬ শে জুলাই অভিমুখে আগাচ্ছিল, ফ্যাসিস্ট সরকার ততই ভীত হচ্ছিল।ঢাকা ও অন্যান্য শহর গুলোর প্রতিটি দেয়ালে লেখা হয়েছিল হাসিনার ক্ষমতার শেষ ফরমান। খুনি হাসিনা বিদায় হও।
When pawns rise, Queen must fall!
দেয়ালের প্রতিটি বাক্যই হাসিনার প্রবল শক্তি ও ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ছাত্র জনতা'কে সাহস যুগিয়েছিল। হাসিনা যখন ছাত্রদের উদ্দেশ্য করে রাজাকারের নাতিপুতি বলে কটুক্তি করে; ছাত্র-জনতা তখন রাজাকার রাজাকার স্লোগানে ফুঁসে ওঠে। তুমি কে আমি কে,
কবির বিছানা থেকে টেবিল, পকেট থেকে মানিব্যাগ ছােট ছােট কাগজের টুকরাে। কথা বলতে বলতে হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে যায়। কাগজ কলম বের করে দু’লাইন লিখে ফেলেন। ছােট বেলায় হাঁটতে হাঁটতে কাগজের টুকরাের সাথে পায়ের ধাক্কা লেগেছিল, সেই অনুভূতি আজ তাকে বেপরােয়া করে তুলেছে। ২০১৪ একুশে বই মেলায় “গণ দাবি ফাসির কাষ্ঠে” কাব্য গ্রন্থ দিয়ে পথচলা শুরু। তারপর “মােমের মূর্তি”, “শ্যামলিমার পায়ের আওয়াজ এবং “নীল ডায়েরির গল্প”। জন্ম ২৩ শে নভেম্বর। দীর্ঘ এক যুগ শাহবাগ পাবলিক লাইব্রেরিতে দেখেছি। ইতিহাস, সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান, ও ধর্মতত্ত্বে তার প্রবল অনুরাগ। চিন্তা শক্তির ইবাদাত খানায় প্রত্যহ ধ্যানমগ্নরত। সৃষ্টিশীল মানুষের জীবন যেমন হয়, ধৈর্যের সাথে বেপরােয়া স্বভাব। শুধু সম্মুখে ছুটে চলা।