পিরামিডের কথা শুনে পাঠকদের চোখের সামনে নিশ্চয়ই মিশরের ছবি ভেসে উঠছে। কিন্তু রাজার অভিষেক উপলক্ষ্যে নির্মিত এই পিরামিডের অবস্থান মিশর নয়। এমনকি আফ্রিকার কোনো দেশও নয়। এর অবস্থান সুবিশাল আটলান্টিকের অপর তীরে অবস্থিত মহাদেশ আমেরিকা। আফ্রিকার ন্যায় ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নির্মিত হয়েছে শত শত পিরামিড। পাঠক, জেনে অবাক হবেন যে, পুরো আমেরিকা জুড়ে যত পরিমাণ পিরামিড রয়েছে, তার সমপরিমাণ পিরামিড পৃথিবীর অন্যান্য মহাদেশে সমষ্টিগতভাবেও তৈরি হয়নি! এই বইয়ে, আমি আপনাদেরকে আমেরিকার অন্যতম কিছু প্রাচীন পিরামিডের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই যার সম্পর্কে আপনি সম্ভবত জানেন না।
পিরামিড নির্মাণের উদ্দেশ্যও ছিল কিছুটা বৈচিত্র্যময়। বিভিন্ন দেবতার উপাসনার মাধ্যম ছাড়াও শহরের প্রাণকেন্দ্র চিহ্নিতকরণ, মানুষ বলির পবিত্র স্থানসহ বিভিন্ন কারণে পিরামিড নির্মিত হতো। নতুন রাজার দীর্ঘায়ু এবং সফলতা কামনা করে দেবতাদের উৎসর্গ করে পিরামিড নির্মিত হতো। বিভিন্ন বিপদ-আপদে দেবতার করুণা ভিক্ষা করতে মানুষ জড়ো হতো পিরামিড প্রাঙ্গণে। স্বেচ্ছাসেবীদের বলির মাধ্যমে দেবতাকে তুষ্ট করতো পুরোহিতগণ। অনেক ক্ষেত্রে পিরামিডগুলো ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করার রীতি ছিল। এর মাধ্যমে প্রজারা তাদের রাজাকে সম্মানিত করতো। তারা বিশ্বাস করতো, পিরামিড পুনর্র্নিমাণের মাধ্যমে রাজ্যের হৃত গৌরব ফিরে আসে। ইতিহাসবিদগণের মতে, মিশরের পিরামিডের ন্যায় প্রাক-কলম্বিয়ান পিরামিডগুলো সমাধিক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো না। বরং পিরামিডের অভ্যন্তরে স্থান পেত হাজারো দেবতার মূর্তি। তবে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে কিছু পিরামিডের অভ্যন্তরে বেশ কিছু সমাধিক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে জানান গবেষকগণ। অনেক শহরে পিরামিডকে সামরিক ব্যূহ হিসেবে ব্যবহার করা হতো।