'গণমুখী ১৯ দফা ও জনতার জিয়া' গ্রন্থটি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচির রাজনৈতিক দর্শন, সামাজিক প্রভাব এবং রাষ্ট্রগঠনমূলক তাৎপর্যকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ যখন অর্থনৈতিক সংকট, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং সামাজিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন এই ১৯ দফা কর্মসূচি একটি সুসংগঠিত ও বাস্তবমুখী পুনর্গঠন পরিকল্পনা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। গ্রন্থটিতে এই কর্মসূচির পটভূমি, প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা এবং জাতীয় উন্নয়নে-এর কৌশলগত গুরুত্ব সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
বইটিতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, শিল্পায়নের প্রসার এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার দিকনির্দেশনা। একই সঙ্গে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা উন্নয়নের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের বিশদ আলোচনা রয়েছে।
এছাড়াও শিক্ষা বিস্তার, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, সবার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, বাসস্থানের
ব্যবস্থা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মতো মৌলিক মানবিক বিষয়গুলোকে এই কর্মসূচির কেন্দ্রে স্থান দেওয়া হয়েছে। বইটি দেখায়, কীভাবে এই ১৯ দফা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক এবং অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার রূপরেখা। সামগ্রিকভাবে, গ্রন্থটি বাংলাদেশের উন্নয়ন চিন্তা, নেতৃত্বের দর্শন এবং জনকেন্দ্রিক নীতিনির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়
অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাঃ শামীম জন্ম ১৯৭৬ সালের ১৫ জুলাই চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় । বাবা মরহুম মনিমুল হক এবং মা মোসাঃ সামসুন্নাহার বেগম । ড. শামীম, ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। স্ত্রী মোসাঃ সারমিন ফেরদৌস এবং একমাত্র সন্তান মোঃ সাদাত শাহরিয়ার । মনাকষা হুমায়ুন রেজা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯১ সালে এসএসসি এবং রাজশাহী সরকারি কলেজ, রাজশাহী থেকে ১৯৯৩ সালে এইচএসসি পর্যায়ে উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন । এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে । ড. শামীম, ১৯৯৭ সালে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্মানে এবং ১৯৯৮ সালে ঐ একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়েও উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জীবন শেষ করে ড. শামীম, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ-এর অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন দেশি ও বিদেশী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হন। শিক্ষা কমিশন-২০০৩'-এ গবেষণা সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন । সর্বশেষ, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন অনুষদে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন । বর্তমানে তিনি বাউবি'তে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন । ড. শামীম, জাপান সরকারের মনবুশো বৃত্তির অধীনে ওকাইয়ামা বিশ্ববিদ্যালয় (Okayama University), জাপান থেকে পরিবেশ বিজ্ঞান (Environmental Science ) - এ ২০১০ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন । আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নাল ও পুস্তকে তাঁর ৩০টির অধিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি ভেষজ উদ্ভিদ (Medicinal Plants) ও মাটির স্ট্রেপটোমাইসিস (Soil Streptomyces spp.) প্রজাতি থেকে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক এবং কীটনাশকের অনুসন্ধান নিয়ে গবেষণা করছেন । ড. শামীমের রচিত একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ‘কৃষিশিক্ষা’ প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র বই দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে পড়ানো হচ্ছে । ড. শামীম, বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নের কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইতোমধ্যে, তিনি নিজ গ্রামে একটি লাইব্রেরি স্থাপনের কাজ শুরু করেছেন ।