শান্তিতে, সমরে কিংবা সংগ্রামে যেকোনো সময়ে প্রতিটি প্রয়োজনে বাংলাদেশের মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখেছিল, তিনি আর কেউ নন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
মুক্তিযুদ্ধত্তোরকালে বাংলাদেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে যদি কথা বলতে হয় সেখানে একই সঙ্গে পরম শ্রদ্ধাভরে উচ্চারণ করা উচিত একটি নাম 'জিয়া'।
অপারেশন সার্চ লাইটের আঁচ যখন দগ্ধ করছিল আপামর জনতার জীবনকে ঠিক তখন প্রতিরোধ যুদ্ধের সূচনা তাঁর হাত ধরেই। সেই যে 'উই রিভোল্ট' উচ্চারণ তিনি করেছিলেন তারপর আমৃত্যু লড়ে গিয়েছেন দেশ মাটি ও মানুষের প্রয়োজনে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়কালে গণবিচ্ছিন্ন সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার শোচনীয় ব্যর্থতায় খাদের কিনারে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল উন্নয়নের স্বপ্ন নিয়ে সবে যাত্রা শুরু করা দেশটি। অধিকারবঞ্চিত সাধারণ মানুষ তখন ধুকছিল জীবন যন্ত্রণায়। ভয়াবহ ও বিপন্ন এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও সাধারণ মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখাতে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক শহিদ জিয়ার হাত ধরে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটির উত্থান। তাঁর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর জাতি যখন আবার পথ হারিয়েছিল, বিপন্ন হয়েছিল গণমানুষের অধিকার: ঠিক তখনই সুযোগ্য নেতৃত্ব নিয়ে এগিয়ে আসেন আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শহিদ জিয়া থেকে খালেদা জিয়া তারপর তারেক রহমান, 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মানেই উন্নত বাংলাদেশ, গণমানুষের স্বস্তিতে বেঁচে থাকার সুস্থ এক বাংলাদেশ'।
'স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল'-বিএনপি'র অর্জনগুলোকে দেশপ্রেমিক জনগণ ও সাধারণ পাঠকের জন্য দুই মলাটে তুলে ধরাই বর্তমান প্রকাশনার মূল উদ্দেশ্য। মৌলিক গবেষণা না হলেও তথ্য উপাত্তের উপযুক্ত বিশ্লেষণ ও যাচাইকরণের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র অনুসরণ করে তা যৌক্তিকভাবে উপস্থাপনার প্রয়াস রয়েছে এই প্রকাশনাটিতে।
অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাঃ শামীম জন্ম ১৯৭৬ সালের ১৫ জুলাই চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় । বাবা মরহুম মনিমুল হক এবং মা মোসাঃ সামসুন্নাহার বেগম । ড. শামীম, ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। স্ত্রী মোসাঃ সারমিন ফেরদৌস এবং একমাত্র সন্তান মোঃ সাদাত শাহরিয়ার । মনাকষা হুমায়ুন রেজা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯১ সালে এসএসসি এবং রাজশাহী সরকারি কলেজ, রাজশাহী থেকে ১৯৯৩ সালে এইচএসসি পর্যায়ে উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন । এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে । ড. শামীম, ১৯৯৭ সালে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্মানে এবং ১৯৯৮ সালে ঐ একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়েও উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জীবন শেষ করে ড. শামীম, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ-এর অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন দেশি ও বিদেশী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হন। শিক্ষা কমিশন-২০০৩'-এ গবেষণা সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন । সর্বশেষ, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন অনুষদে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন । বর্তমানে তিনি বাউবি'তে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন । ড. শামীম, জাপান সরকারের মনবুশো বৃত্তির অধীনে ওকাইয়ামা বিশ্ববিদ্যালয় (Okayama University), জাপান থেকে পরিবেশ বিজ্ঞান (Environmental Science ) - এ ২০১০ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন । আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নাল ও পুস্তকে তাঁর ৩০টির অধিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি ভেষজ উদ্ভিদ (Medicinal Plants) ও মাটির স্ট্রেপটোমাইসিস (Soil Streptomyces spp.) প্রজাতি থেকে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক এবং কীটনাশকের অনুসন্ধান নিয়ে গবেষণা করছেন । ড. শামীমের রচিত একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ‘কৃষিশিক্ষা’ প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র বই দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে পড়ানো হচ্ছে । ড. শামীম, বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নের কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইতোমধ্যে, তিনি নিজ গ্রামে একটি লাইব্রেরি স্থাপনের কাজ শুরু করেছেন ।