২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট—বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দুটি মাস শুধু ক্যালেন্ডারের সময় নয়, এক গভীর অভিঘাতের নাম| এই সময় ছিল উত্তাল, অগ্নিগর্ভ, রক্তাক্ত এবং একইসাথে প্রত্যয়ের| রাজপথ, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই যেন এক অদৃশ্য স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছিল, যা পরিণত হয়েছিল বিস্তৃত গণআন্দোলনে|
এই বইটি কোনো আবেগতাড়িত স্লোগানের দলিল নয়, আবার নিছক ঘটনাপঞ্জিও নয়| “জুলাই-আগস্ট ‘২৪” একটি সময়ের সাক্ষ্য| এখানে আছে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, তার ক্রমবিকাশ, রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, বিভ্রান্তি ও বিভাজন—সবকিছুর এক সমšি^ত চিত্র| আমি চেষ্টা করেছি পক্ষপাতহীন দৃষ্টিতে ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করতে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বুঝতে পারে—কীভাবে একটি দাবি ধীরে ধীরে রূপ নেয় বৃহত্তর জনআকাঙ্ক্ষায়, আর কীভাবে ক্ষমতা ও প্রতিবাদের দ্বন্দ্ব ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়|
এই সময়ে অনেক তরুণ প্রাণ ঝরে গেছে—কেউ ¯^প্ন নিয়ে, কেউ প্রশ্ন নিয়ে, কেউ শুধু ন্যায়বোধের তাড়নায়| তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এই বই রচিত| কোনো রাজনৈতিক অবস্থান প্রতিষ্ঠা নয়, বরং সত্যের বিভিন্ন স্তর উন্মোচনই ছিল আমার লক্ষ্য|
আমি বিশ্বাস করি, ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের নয়; ইতিহাস তাদেরও, যারা প্রশ্ন তোলে, যারা দাঁড়ায়, যারা ভয় পায় তবু পিছিয়ে যায় না| জুলাই-আগস্ট ‘২৪’ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—গণমানুষের শক্তি কখনোই অবমূল্যায়ন করার নয়|
এই বই লেখার সময় আমি বিভিন্ন সংবাদসূত্র, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, সাক্ষাৎকার এবং গবেষণালব্ধ তথ্য ব্যবহার করেছি| তবুও, কোনো ত্রুটি থাকলে তার দায় সম্পূর্ণ আমার|
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ ১৯৮০ সালের এপ্রিলের ১১ তারিখে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শাহাবৃদ্ধি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৯০ সালে চট্রগ্রামের নিউঝাউতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম, ১৯৯৬ সালে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এসসি এবং ১৯৯৮ সালে অধ্যাপক আব্দুল মজিদ কলেজ থেকে স্টার মার্কসহ এইচ এস সি পাস করেন। ২০০২ সালে বাউবি থেকে বি.এজি.এড এবং ২০২২ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স পাস করেন। ২০০৭ সালে মালয়শিয়া গমন করেন। মালয়শিয়ার স্মৃতিচারণমুলক তাঁর বিখ্যাত বই ‘জীবনযুদ্ধে মালয়েশিয়ে ভ্রমণ’। ২০১০ সালে বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলি আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃষি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে। ২০১৫ সালে বিট্রিশ কাউন্সিলের কানেক্টটিং ক্লাশরোম প্রজেক্টের আওতায় যুক্তরাজ্যের লিংকন ইউনিভার্সিটিসহ একাধিক বিদ্যালয় পরিদর্শণ করে। ২০১৭ সালে ভারত সফর করেন। বিলেতের স্মৃতিচারণমুলক তাঁর বিখ্যাত বই ‘শ্রেণিকক্ষের খোঁজে বিলেত ভ্রমণ’। তিনি ‘শিক্ষক’,শিক্ষককতার করোনাকালীন দিনলিপি, শিক্ষকতার ঝুড়ি, শিক্ষকতার তিলক, জুলাই আগস্ট ’২৪,জীবন পুতুল খেলার গল্প, রূপবৈচিত্র বাংলাদেশ, কৃষি কবিতা, শ্রোতের মাঝে সাগর প্রভৃতি বইয়ের লেখক। সময় ও সুযোগ পেলে আরো বই প্রকাশ হবে।