বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে জীববিজ্ঞানে অনেক বড় বড় আবিষ্কার হয়েছিল, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ডিএনএ-র গঠন উন্মোচন। আপনি হয়তো নাম শুনেছেন ওয়াটসন, ক্রিক, উইলকিন্স আর ফ্র্যাঙ্কলিন এই চার বিজ্ঞানী ১৯৫৩ সালে সেই বিখ্যাত ডাবল হেলিক্স কাঠামোটা আবিষ্কার করেন। ডিএনএ কীভাবে গঠিত, সেই দিক থেকে এটি ছিল এক বিশাল অগ্রগতি।
এরপর বিজ্ঞানীরা বুঝতে লাগলেন, শরীর গঠনের প্রক্রিয়া, বিশেষ করে ভ্রূণের বিকাশ (যেটা জীবনের শুরুতে ঘটে), সেটার পেছনে ডিএনএ কীভাবে কাজ করে। কিন্তু একটা জায়গা থেকেই যাচ্ছিল ধোঁয়াশায়। কারণ, সবকিছু ডিএনএ-র সিকোয়েন্স বা ক্রম দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছিল না। যেন কিছু বিষয় ব্যাখ্যার বাইরে থেকে যাচ্ছিল। তাই তাঁরা ভাবতে শুরু করলেন- নিশ্চয়ই এমন কিছু অতিরিক্ত প্রক্রিয়া বা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা রয়েছে, যেগুলো সরাসরি ডিএনএ-র সিকোয়েন্সে লেখা নেই, কিন্তু সেগুলো ডিএনএ-র কাজকে প্রভাবিত করে। এটাই এপিজেনেটিক্স।
আমরা এখন যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে এপিজেনেটিক গবেফা শুধু ল্যাবরেটরির দেয়ালে আর সীমাবদ্ধ নয় বরং ধীরে ধীরে এটি পার্সোনালাইজড মেডিসিন তথা ব্যক্তিনির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা, এমনকি সামাজিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। যদি একজন বাবা অত্যধিক ধুমপান করেন, অথবা শিশুকালে অপুষ্টিতে ভোগেন, তাহলে তার সন্তানের অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, এমনকি মানসিক সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
এপিজেনেটিক্সের চোখ দিয়ে দেখা জীবন এমন এক যাত্রা, যেখানে অভিজ্ঞতা কোষের ভাষায় অনুবাদ হয়, আর শরীর হয় সেই অভিজ্ঞতার নীরব দলিল।
এই আন আমাদের শেখায় সহনশীলতা যেমনটা আচরণ করে, তার পেছনে লুকিয়ে ছাপ। আর একইসঙ্গে দেয় আশাবাদ স্থাপগুলো বদলানোও সম্ভব। কারণ আমরা বুঝি, মানুষ থাকতে পারে বহু প্রজন্মের কারণ তা শেখায়, এই
শেষ কথাটা এমনই:
আমরা কেবল জিন নিয়ে জন্মাই না, আমরা জিনের উপর ছাপ রেখে যাই।
আমাদের জীবন, অভ্যাস, ভালোবাসা, লড়াই সবকিছু মিলে তৈরি করে এমন এক এপিজেনেটিক সলিল, যা ভবিষ্যতের কোনো কোষে হয়তো একদিন কাজে লাগবে বিংবা আমাদের বিপদে ফেলবে।
এভাবেই, আমরা একে অপরের শরীরের মধ্যেও লিখে যাই মানবতার গল্প।