সমকালীন পারিবারিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস নিশি রাতের কান্নার গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে রেহানা− একজন সংবেদনশীল নারী, যিনি পারিবারিক অবহেলা, মানসিক নির্যাতন ও অপমানের শিকার। মাঝরাতের তার দুঃস্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। তীব্র মাথাব্যথা ও অস্থিরতা ধীরে ধীরে তাকে সমাজের চোখে পাগল তকমা এনে দেয়।
রাজিবের পরিবারের রহস্যময় কিছু ঘটনা গল্পে নতুন মোড় সৃষ্টি করে। রেহানার চিকিৎসকের উদ্ভট মন্তব্য এবং বাড়ির অতীতকে ঘিরে অস্বাভাবিক ইঙ্গিত ঘটনাপ্রবাহকে আরও জটিল ও অদ্ভুত করে তোলে।
রেহানা দীর্ঘ সময় সন্তানহীন থাকার চেষ্টা করলেও মাতৃত্বের টান তাকে ভেতর থেকে নাড়া দেয়। বাগানের গাছ, কবর, অতীতের স্মৃতি− অন্যরকম এক বিষণ্নতা। অবশেষে রাজিবের আগের ঘরের শিশুদের মুখে মা ডাক রেহানার মানসিক পুনর্জন্মের সূচনা ঘটায়।
দৃঢ়চরিত্র, নিয়ন্ত্রণপ্রবণ ও বাস্তববাদী শারমিন এক রাতে ফাহাদ ও কবরের কাছে গেলে ভয় পেয়ে যায়। বাড়ির চারপাশে কুকুরের ঘোরাঘুরি, তার লকলকে জিহ্বা এবং অদ্ভুত শব্দ পরিবেশকে ভৌতিক, যা পাঠকের গা ছমছমে করে তোলে। অতিপ্রাকৃত বা অশুভ আবহে শারমিনের ভেতরের লুকানো ভয় প্রকাশ পায়। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তার অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, বিশেষ করে কবর, রাত ও কুকুরের উপস্থিতি− সব মিলিয়ে এক তীব্র মানসিক টানাপোড়েন তৈরি করে।
উপন্যাসের শেষ পর্যন্ত একটি বিষয় সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে−প্রকৃতি কোনো অপরাধীকে ক্ষমা করে না।
নিশি রাতের কান্না মূলত এক রহস্যময় ঘটনাপ্রবাহের ভেতর দিয়ে নারীর নীরব যন্ত্রণা, অপরাধবোধ, সংসার, মায়া-মমতা ও পুনরুদ্ধারের কাহিনি। যেখানে রাতের কান্না শেষ পর্যন্ত ভোরের সম্ভাবনায় রূপ নেয়।