কাল্পনিক গোয়েন্দা কাহিনি তো আমরা প্রতিনিয়তই পড়ি। কিন্তু জটিল এই পৃথিবীতে ট্রু স্পাই স্টোরির সংখ্যাই এত বেশি, সেগুলো পড়তে গেলেই এক জীবন ফুরিয়ে যাওয়ার কথা। ফিকশনের তুলনায় নন ফিকশন স্পাই স্টোরি পড়ার মধ্যে বাড়তি একটা লাভ আছে। এর মাধ্যমে গল্পের পাশাপাশি আপনি ইতিহাসের একটা অংশও জানতে পারবেন। জটিল আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কেও কিছুটা ধারণা পাবেন। আর সেজন্যই আসছে মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা’র প্রথম বই: “স্পাই স্টোরিজ: এসপিওনাজ জগতের অবিশ্বাস্য কিছু সত্য কাহিনি”। প্রতিটি কাহিনিই সত্য ঘটনা অবলম্বনে এবং প্রতিটি কাহিনির বর্ণনাই শ্বাসরুদ্ধকর। মোট ছয়টা গল্প রাখা হয়েছে বইটিতে। এরমধ্যে চারটা গল্পই নেওয়া হয়েছে মূলত প্রশংসিত কিছু নন-ফিকশন থ্রিলার থেকে। আর বাকি দুইটা গল্প লেখা হয়েছে বিভিন্ন ডকুমেন্টারি, আর্টিকেল, লিকড ডকুমেন্টস থেকে তথ্য নিয়ে। সংক্ষেপে বলতে গেলে “স্পাই স্টোরিজ”-এ একই বইয়ের ভেতর আপনি পাচ্ছেন ছয়টা শ্বাসরুদ্ধকর সত্যিকার এসপিওনাজ কাহিনি, যেগুলোতে মূল বইয়ের থ্রিলিং অংশের আমেজ বেশ ভালোভাবেই উঠে এসেছে, কিন্তু যেগুলোতে বইয়ের বাহুল্য অংশগুলো থাকছে না।
স্পাই স্টোরিজ ২
-------------------------------------
আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো টের পায়, তাদের ভেতরে এমন একজন উচ্চপদস্থ ডাবল এজেন্ট আছে, যে তাদের টপ সিক্রেট তথ্যগুলো কেজিবির কাছে পাচার করে দিচ্ছে। সেই ডাবল এজেন্টের খোঁজেই শুরু হয় গোপন একটা কাউন্টার এসপিওনাজ অপারেশন, যা স্থায়ী হয় পরবর্তী ১৫ বছর পর্যন্ত!
এই কাহিনি সেই ডাবল এজেন্টেরই সত্য কাহিনি— শীর্ষ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা হয়েও কীভাবে সে সবার চোখের সামনে দিয়ে কেজিবির হয়ে কাজ করে গেছে, কীভাবে কেজিবি তাকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে হ্যান্ডেল করেছে, এবং কীভাবে তাকে ধরতে গিয়ে সিআইএ এবং এফবিআই একের পর এক নিজেদের বিশ্বস্ত অফিসারদেরকে সন্দেহ করে তাদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিয়েছে।
স্বাগতম স্নায়ুযুদ্ধের সবচেয়ে থ্রিলিং এসপিওনাজ কাহিনিগুলোর একটাতে, যেখানে একজন ডাবল এজেন্টের কাহিনি বর্ণনা করতে গিয়ে প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে এসেছে আরও ১৪ জন স্পাইয়ের কাহিনি! আমেরিকান এবং রাশিয়ান লেখকদের একাধিক বই অবলম্বনে লেখা এই নন-ফিকশন থ্রিলার আপনাকে নিয়ে যাবে এসপিওনাজের রোমাঞ্চকর জগতে।
জন্মসূত্রে বাংলাদেশী হলেও বাবার চাকরিসূত্রে ছোটবেলা থেকেই বসবাস করছেন লিবিয়াতে। পড়াশোনা সেখানকার বাংলাদেশী স্কুলে, পরবর্তীতে সিরত ইউনিভার্সিটিতে। পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু সবসময়ই পছন্দ করেছেন নিজে নতুন কিছু জেনে অন্যদের তা জানাতে। তাঁর শখও কেবল একাডেমিক বিষয়াদির মাঝে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ছড়িয়ে আছে ইতিহাস, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, তথ্যপ্রযুক্তির মতো নানাবিধ ক্ষেত্র জুড়ে। ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ দেখেছেন খুব কাছ থেকে, হয়েছেন এর ভয়াবহতার শিকারও। এসব বিষয় তাঁর মনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। ফলশ্রুতিতে তাঁর লেখালেখিতে প্রায় সময়ই উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও ইতিহাসের কথা। নিয়মিত লেখালেখি করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের একাউন্টে, অনলাইন মিডিয়া রোর বাংলায়, এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রপত্রিকাগুলোতে। ‘প্রেসিডেন্ট মুরসি’ শিরোনামের এক সংকলন বইয়ে স্থান পেয়েছে তাঁর দুটি লেখা। সামনের দিনগুলোতে ইতিহাস ও রাজনীতির চমকপ্রদ সব বিষয় নিয়েই লেখালেখির ইচ্ছে গুণী এই তরুণ লেখকের, ইচ্ছে নিজের অর্জিত জ্ঞানকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার।