চৌধুরী ইশরাক উজ জামান সশস্ত্র বাহিনীতে পনেরো বছরেরও বেশি সময় ধরে একজন চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যার একটি বড় অংশ ছিল একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে।
বইতে লেখক সশস্ত্র বাহিনীর বেশির ভাগ নীতি ও অনুশীলনের প্রশংসা করেছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের সেই ব্যক্তিদেরও অভিনন্দন জানিয়েছেন, যারা এর সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেন। লেখক সেই প্রতিষ্ঠানের অংশ হতে পেরে তার গর্বের অনুভূতিও প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি তার কর্মজীবনের কিছু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব এবং পরিপূর্ণতার মুহূর্তগুলোও স্মরণ করেছেন।
তবে তার চাকরির সময়কালে এক সাংগঠনিক সত্তার কিছু নির্দিষ্ট অংশের সঙ্গে লেখকের মিথস্ক্রিয়ার বর্ণনা এবং বিশ্লেষণও রয়েছে এই বইটিতে। সেই সঙ্গে কিছু পরিস্থিতি ও ঘটনার বিবরণও রয়েছে, যা লেখকের কর্মজীবনকে হয় সন্তোষজনক ও পরিপূর্ণ করে তুলেছিল অথবা করেছিল হতাশাব্যঞ্জক ও বিষণ্ন। পাশাপাশি সেই সময়ে তিনি যে দ্বিধা ও নিরাশার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তারও বর্ণনা রয়েছে।
সেই মর্মে লেখক উল্লেখ করেন যে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে কতিপয় ব্যক্তির এক বিকৃত ও বিচ্যুতপূর্ণ মূল্যবোধ রয়েছে। লেখকের মতে, এই ধরনের ব্যক্তিরা তাদের ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বা তাদের স্বার্থপরতার অভিপ্রায়কে পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে নিয়মিতভাবে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান ও বিশিষ্টতার অন্যায় সুবিধাগুলো গ্রহণ করে থাকেন। এবং এটি একটি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও সম্মানকে ক্ষুণ্ন করে, যার ফলে প্রাতিষ্ঠানিক সম্প্রসারণ, উন্নয়ন ও খ্যাতি বিপন্ন হয়।
চিকিৎসা-প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এবং তার বাইরে আরো কিছু নীতি ও অনুশীলনের প্রতি লেখক ইঙ্গিত করেছেন যা তার মতে, সব সময় ন্যায়সংগত ছিল না।
এসবের মধ্যে রয়েছে : বাকি সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠতার তুলনায় মেডিক্যাল কোর-এর কর্মকর্তাদের প্রদত্ত পূর্ববর্তী জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি, যা ছিল সম্পূর্ণরূপে সমতাহীন; সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদানের বিভ্রান্তিকর ও আত্মঘাতী নীতি এবং অনুশীলন; উচ্চতর দপ্তর দ্বারা চিকিৎসা-প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর অনুপযুক্ত, অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয় তদারকি ও হস্তক্ষেপ; স্বয়ং মেডিক্যাল কোর-এর মধ্যে দ্বন্দ্ব, দলাদলি ও ষড়যন্ত্র। আরো রয়েছে চিকিৎসাগত দুর্ঘটনার দায়িত্ব নিরূপণ ও নির্ধারণের ব্যাপারে প্রাতিষ্ঠানিক মানসিকতা এবং প্রক্রিয়া, যা ছিল সম্পূর্ণরূপে পক্ষপাতমূলক। এবং অবশেষে চিকিৎসাকর্মীরা যে নিতান্ত করুণ ও নিদারুণ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে তাদের পরিষেবা প্রদানের প্রতি প্রশাসনের অব্যাহত অবহেলার বিষয়টিও লেখক এই গ্রন্থে তুলে ধরেছেন।
অবশ্য লেখক এই বিষয়টির ওপরও জোর দিয়েছেন যে আলোচিত বিষয়গুলো অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই প্রচলিত রয়েছে — হোক সেটি সরকারি, আধাসরকারি বা বেসরকারি।
সশস্ত্র বাহিনী থেকে লেখকের পদত্যাগের প্রক্রিয়া এবং তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব ও সংগ্রামের মাধ্যমে আখ্যানটি শেষ হয়েছে।