অন্যান্য প্রযুক্তির ন্যয় কৃষি প্রযুক্তিও একটা চলমান প্রক্রিয়া। দেশ বিদেশের কৃষি বিজ্ঞানীদের হাতের পরশে কৃষিতে সংযোজিত হচ্ছে নিত্যনতুন প্রযুক্তি। এখনো আমাদের দেশে কৃষি পেশার সাথে সরাসরি যুক্ত কৃষক ভাইয়েরা অশিক্ষিত, স্বশিক্ষিত বা স্বল্প শিক্ষিত। ফলে তাদের বদ্ধমূল কৃষি বিষয়ক ধারণাকে নতুন কৃষি প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করাটা সত্যিই খুব কঠিন কাজ। এই কঠিন কাজটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা ও কৃষিবান্ধব ব্যক্তিবর্গ সফলতার সাথে করার কারণেই আজকে আমাদের দেশের কৃষিতে এসেছে অভাবনীয় সফলতা। প্রকৃতি নির্ভর কৃষিতে এখনো রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি। নগরায়ন, শিল্পায়ন, নতুন ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য প্রতি বছর আমাদের কৃষি জমি দ্রুত কমে যাচ্ছে, সাথে যোগ হচ্ছে ২২ লাখ নতুন মুখ। ফলে আমাদেরকে অল্প জমিতে অধিক ফসল ফলাতে নতুন কৃষি প্রযুক্তিকে দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। কৃষিপণ্যের মধ্যে অন্যতম হলো সবজি। আগের সেই পুরোনো ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে বর্তমান প্রজন্ম নিয়মিত মাছ মাংসের পাশাপাশি নিরাপদ সবজি গ্রহণকে আবশ্যক বলে মনে করছেন। অন্যান্য কৃষি প্রযুক্তির ন্যায় সবজি উৎপাদনকে লাভজনক ও নিরাপদ করতে সবজি চাষে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। সবজি উৎপাদনের সবশেষ প্রযুক্তি নিয়েই খ্যাতনামা লেখক কৃষিবিদ ড. মো. আখতারুজ্জামান সংকলন করেছেন এই পুস্তকখানি। গতানুগতিক ধারার সবজি চারা উৎপাদনের ধারাকে পিছনে ফেলে এখন সবজি চারা তৈরি হচ্ছে হানিকম্ব প্লাস্টিক ট্রে'তে। সবজি চাষে ব্যবহৃত হচ্ছে মালচিং ফিল্ম। বাংলাদেশের নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকায় সবজি চাষে বিপ্লব এনেছে সর্জান পদ্ধতির সবজি চাষ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করা ভাসমান বেডে সবজি চাষ পদ্ধতি। এসব প্রযুক্তির সবশেষ তথ্য এই পুস্তকে সন্নিবেশ করা হয়েছে। সাথে থাকছে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের যাবতীয় কলাকৌশল।
বরেণ্য লেখক কৃষিবিদ ড. মো. আখতারুজ্জামানের কৃষির প্রতি নিজের চরম মমত্ববোধের আলোকে এবং বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারে তাঁর ৩২ বছরের চাকরির বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সংকলন করেছেন "লাভজনক ও নিরাপদ সবজি চাষ" শীর্ষক এই পুস্তকখানি। আশা করি, কৃষির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত সচেতন কৃষক, কৃষিবান্ধব ব্যক্তি এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মী সবার জন্যই পুস্তকখানি সবিশেষ উপকারে আসবে। বইটি সংগ্রহের আগে বইটির সূচীপত্রের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধের অনুরোধ রইল।
কৃষিবিদ ড. মাে. আখতারুজ্জামান, সংস্কৃতির রাজধানী খ্যাত কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলার দুর্বাচারা গ্রামে ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুল শিক্ষক প্রয়াত বাবা এবং প্রচণ্ড ধীশক্তির অধিকারিনী মমতাময়ী মায়ের স্নেহের পরশে নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাপনান্তে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল হতে ১৯৭৮ সালে এসএসসি, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে ১৯৮০ সালে এইচএসসি, পাশ করে ময়মনসিংহস্থ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে কৃষিতে কৃতিত্বের সাথে ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করত: ১৯৮৬ সালের ৮ম রেগুলার বিসিএস পরিক্ষায় চুড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়ে কৃষি ক্যাডারের সদস্য হিসেবে চাকুরি জীবন শুরু করেন ১৯৮৯ সালে। সরকারি বৃত্তিতে যুক্তরাজ্যের রেডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোলাবােরেশনে ১৯৯৯ সালে কীটতত্তে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। চাকুরি জীবনে তিনি কৃষির বহুমুখী সেক্টর ও উন্নয়ন সহযােগিদের সাথে কাজ করে মাঠ ফসল, উদ্যান ফসল, বীজ প্রত্যয়ন, উদ্ভিদ সঙ্গনিরােধ, বালাই ব্যবস্থাপনা, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কৃষি প্রশিক্ষণ প্রভৃতি বিষয়ে বিপুল বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। যুক্তরাজ্য, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যাণ্ড, ভারত প্রভৃতি দেশ থেকে গ্রহণকৃত একাডেমিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, শিক্ষা সফরে নেতৃত্বদান, আন্তর্জাতিক সেমিনারে রিসাের্স স্পীকার, লীড স্পীকার ও কীনােট স্পীকার হিসেবে বক্তব্য প্রদান করে তিনি ভীষণভাবে সমাদৃত হয়েছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গেস্ট লেকচারার হিসেবে দেড় যুগ কাজ করার বর্ণিল অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে ক্লাস পরিচালনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’তে। প্রতিটি কর্মস্থলেই তার উদ্ভাবনী কাজের সন্ধান মেলে। প্রচণ্ড বিদ্যানুরাগী ও সৃষ্টিশীল প্রতিভার অধিকারি এই মানুষটি কৃষির বাইরেও মনস্তত্ব, মােটিভেশন, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে ব্যাপক পড়াশুনা করত: প্রচুর লেখালেখিও করেন। তিনি জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমির মহাপরিচালকের সফল দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে অবসরােত্তর ছুটিতে আছেন। পদস্থ সরকারি চাকুরে একাধিকবার জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত সহধর্মিনী, কর্মজীবী পুত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পড়ুয়া একমাত্র আত্মজাকে নিয়ে সদা হাস্যময় ইতিবাচক মানসিকতার এই মানুষটির রয়েছে এক সুখময় পারিবারিক জীবন। তাঁর নিজের ডিজাইন করা সুবিন্যস্ত ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট (www.drakhtaruzzaman.info) ব্রাউজ করলে তাঁর সৃষ্টিশীলতা, যােগ্যতা, দক্ষতাসহ বহুমাত্রিক ও অতলান্তিক জ্ঞানের সন্ধান মিলবে।