শত শত বছর ধরে সুফি সাধকরা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে ছোট ছোট গল্প ব্যবহার করতেন। অল্প কথায় সহজ ভাষায় সুফি তাদের অর্জিত জ্ঞান ও উপলব্ধির কথা জানাতে চেষ্টা করতেন।
সুফি ঘরানা সম্পর্কে সম্যক ধারণা ছাড়া এ গল্পগুলোর মর্মমূলে পৌঁছানো কঠিন। সুফি ঘরানার মধ্যে অসংখ্য তারিকা রয়েছে। প্রত্যেক তরিকার অনুসারীরা তাদের নিজেদের সাধনা ও চর্চাকে সঠিক বলে দাবি করেন।
সুফিদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো, তারা পীর-মুর্শিদ-শায়েখ-আউলিয়াদের উপাসনা করেন। জীবিত বা মৃত ব্যক্তির শানে প্রশংসা করেন, যা কুরআনের শিক্ষার সাথে বিরোধপূর্ণ।
তাদের যুক্তি মতে পবিত্র কোরানে বলা হয়েছে, "সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের স্রষ্টার-যিনি পরম করুণাময়।" তার ইবাদত ছাড়া অন্য কারো কাছে মাথা নত করা শিরকের শামিল।
সুফি ঘরানার একটি বড় অংশ গান করেন, বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করেন। নিজস্ব ধারার সঙ্গীতচর্চা করেন। অন্যদিকে ধর্মীয়ভাবে সুফি দর্শনের বিরোধীরা মনে করেন ধর্মীয় বিধান মতে গান-বাজনা নিষিদ্ধ।
সুফি ঘরানার সারবত্তা হলো-বিশ্বজগৎ, বস্তু ও আত্মা সবই মহাসত্তার অংশ। এ মতবাদের বিরোধীদের মতে, এটি প্যান্থেইজম (Pantheism)-সর্বেশ্বরবাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাওহিদ (১)-একত্ববাদের পরিপন্থী।
বাংলাদেশের সেক্যুলার বুদ্ধিজীবীরা সুফি ঘারানার চর্চাকে ধর্মীয় শোষণ, কুসংস্কার, ও প্রতারণার ফাঁদ মনে করেন। তারা সুফি চর্চা প্রতিরোধে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর "লাল সালু" উপন্যাসকে সমাজতাত্ত্বিক দলিল হিসেবে ব্যবহার করেন।
এ গ্রন্থে এ সকল বিরোধ নিয়ে কোনো আলোচনা করা হয় নি। সুনির্দিষ্ট করে সুফি ঘরানার পক্ষে-বিপক্ষে কোনো তর্কও তোলা হয়নি। বরং এটি মরমী-সাধকদের জীবন অভিজ্ঞতার অল্প কয়েকটি গল্পের ক্ষুদ্র একটি সংকলন।
আরশাদ সিদ্দিকী সম্পন্ন করে চলছেন এমন এক জীবন-পরিক্রমা, যেখানে আলো আছে সত্য; তবে সেইখানে বিষ-কণ্টকই অশেষ! ভারতভাগের আঘাতে বিপর্যস্ত হয়েছে তাঁর পিতৃপুরুষের জীবনের ভেতর-বাহির। সেই আঘাতের অপরিমেয় দংশন তাঁকেও সইতে হয়েছে। পেতে হয়েছে বিষ-জরজর শৈশব ও কৈশোর। পেশাগত জীবনও তার মসৃণ হয়নি। কাজ করেছেন জাতীয় ও আন্তজার্তিক সংস্থায়। প্রতিষ্ঠানের উঁচু পদে আসীন হয়েও নিজেকে একজন আধুনিক দাস ছাড়া ভিন্ন কোনো উপলদ্ধি হয়নি তার। জীবনের সায়াহ্নে এসেও তিনি দেখতে পান এখনও প্রতি কদমে তাঁর জন্য বরাদ্দ হয়ে আছে কেবলই কাঁটার মুকুট। প্রচল-প্রথা-প্রতিযোগিতার প্রতি অনীহা তাঁকে ক্রমে নির্জন থেকে নির্জনতম করে তুলেছে। তবে সমষ্টির কল্যাণ বিমুখ তিনি হননি কখনো। সমাজ-বিপ্লবের স্বপ্নতাড়িত আরশাদ সিদ্দিকী প্রথম তারুণ্যে নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করেছেন সক্রিয় রাজনীতিতে। দেখেছেন সেই বিশ্বেও কত রকমের ক্রুর নির্মমতা বিরাজ করে। এবং সেই ক্রুরতা কত রকমে তাঁকে আক্রান্ত করার শক্তি রাখে। পেশাগতভাবে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়ে প্রত্যক্ষ করেছেন, বিশ্বব্যাপী চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা কতোখানি সংকুচিত ও দৈন্যতাপীড়িত।