আরশাদ সিদ্দিকী সম্পন্ন করে চলছেন এমন এক জীবন-পরিক্রমা, যেখানে আলো আছে সত্য; তবে সেইখানে বিষ-কণ্টকই অশেষ! ভারতভাগের আঘাতে বিপর্যস্ত হয়েছে তাঁর পিতৃপুরুষের জীবনের ভেতর-বাহির। সেই আঘাতের অপরিমেয় দংশন তাঁকেও সইতে হয়েছে। পেতে হয়েছে বিষ-জরজর শৈশব ও কৈশোর। পেশাগত জীবনও তার মসৃণ হয়নি। কাজ করেছেন জাতীয় ও আন্তজার্তিক সংস্থায়। প্রতিষ্ঠানের উঁচু পদে আসীন হয়েও নিজেকে একজন আধুনিক দাস ছাড়া ভিন্ন কোনো উপলদ্ধি হয়নি তার। জীবনের সায়াহ্নে এসেও তিনি দেখতে পান এখনও প্রতি কদমে তাঁর জন্য বরাদ্দ হয়ে আছে কেবলই কাঁটার মুকুট। প্রচল-প্রথা-প্রতিযোগিতার প্রতি অনীহা তাঁকে ক্রমে নির্জন থেকে নির্জনতম করে তুলেছে। তবে সমষ্টির কল্যাণ বিমুখ তিনি হননি কখনো। সমাজ-বিপ্লবের স্বপ্নতাড়িত আরশাদ সিদ্দিকী প্রথম তারুণ্যে নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করেছেন সক্রিয় রাজনীতিতে। দেখেছেন সেই বিশ্বেও কত রকমের ক্রুর নির্মমতা বিরাজ করে। এবং সেই ক্রুরতা কত রকমে তাঁকে আক্রান্ত করার শক্তি রাখে। পেশাগতভাবে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়ে প্রত্যক্ষ করেছেন, বিশ্বব্যাপী চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা কতোখানি সংকুচিত ও দৈন্যতাপীড়িত।