"শৈশবে মহৎ জীবনের লক্ষণ" বইইটি কথাসাহিত্যিক কবি এস এম শাওয়ান মনিরের লেখা ৩৫ তম গ্রন্থ। বইটি শিশু-কিশোরদের চরিত্র গঠনের অনন্য গ্রন্থ।
ভূমিকা:
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ তায়ালার। যিনি এ মহাবিশ্ব সৃষ্টিকারী ও হেফাজতকারী। এ মহাবিশ্বে আঠারো হাজার মাল্লুক সৃষ্টি হয়েছে তাঁরই ইচ্ছায়। আঠারো হাজার মাখলুকের মধ্যে থেকে মানব জাতিকে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী করেছেন তার প্রতিই ধ্যান, জ্ঞান ও মনে সর্বক্ষণ কৃতজ্ঞতা জানাই ও তাঁরই ইবাদত করি।
অনন্তর। দরুদ ও সালাম সে মহামানবের প্রতি যিনি বিভ্রান্ত ও আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুৎ মানব সমাজকে পুনরায় আল্লাহর পথে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যার অক্লান্ত পরিশ্রমে মানবজাতি ইহকাল ও পরকালের মহাকল্যাণের ইমানরূপি মহারত্ন লাভ করেছেন।
আদি মানব হযরত আদম (আ.) থেকে আখেরী নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) পর্যন্ত নবুওয়াতের মাধ্যমে মানুষকে হেদায়েতের পথে আহ্বান করছেন ও পথ দেখিয়েছেন। বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (স.) এর ওফাতের পর নবুওয়তের দ্বারা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কখনও হেদায়েতের দ্বার বন্ধ হয়নি। আর কিয়ামত পর্যন্ত বন্ধ হবেও না। কেননা পবিত্র কোরআন সুন্নার আলোকে যুগে যুগে বুজর্গান আলেম, অলী আউলিয়া মহৎ ব্যক্তিগণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে হেদায়েতের পথ দেখিয়েছেন ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাবেন। জ্ঞান জানতে চায় যারাই হেদায়েতের পথে লোকজনদের দ্বীনের পথে আহ্বান করেন ওরা কারা? এ মর্মে বিশ্ব নবি (স.) বলেছেন; "আমার পরে নবুওয়ত আর থাকবে না, থাকবে বাশারত বা শুভসমাচার; যা খোদা বিশ্বাসীগণ স্বপ্নযোগে অবহিত হয়ে থাকবে অথবা
তাকে অবহিত করানো হবে।" এ সমস্ত মহৎ লোক বিশ্বনবি (স.) এর গুণে গুণান্বিত নৈতিক চরিত্রে আধ্যাত্মিক ও বাস্তব কর্মে তারাই নায়েবে রাসুল (স.) নামে অবহিত। এ সমস্ত মহৎ লোকগুলো প্রকৃতভাবে বিশ্বনবি (স.) ওয়ারিশ। আর এ সমস্ত মহৎ লোকগুলিই প্রকৃত পক্ষে আল্লাহ ওয়ালা। তাঁদের জ্ঞান বিবেকের ধারণা সঠিক ও নির্ভুল হয়ে থাকে। এ মর্মে আল্লাহর রাসুল (স.) বলেছেন, “খোদা বিশ্বাসী মমিনগণ খোদা পাকের নূর দ্বারা তার স্বরূপ দর্শন করে থাকেন।"
খোদা বিশ্বাসী মহৎ প্রাণের অধিকারিগণ আল্লাহর হয়ে যায় বিধায় আল্লাহর ইচ্ছায় তাদের ইচ্ছা। পবিত্র বাণীতে তাই বলা হয়েছে যে, “যে আল্লাহর হয়ে যায় আল্লাহ পাক ও তার হয়ে যায়, তখন সে যে সমস্ত করে থাকে আল্লাহর ইচ্ছায়ই করে থাকেন।" অন্যত্রে বলেছেন, " যে আমার হয়ে গেছে আমি তার হয়ে গেছি সে যা বলে আমি তা বলি, সে যা করে আমি তা করি, সে যা ধারণ করে আমি তা ধারণ করি।” সুতরাং মহৎ প্রাণের লোকদের দ্বারাই কখনও কখনও অসাধ্য কাজ করিয়ে থাকেন মহান আল্লাহ তায়ালা। যা কিনা সর্বসাধারণ অলৌকিক শক্তি কিংবা কেরামতি বলে থাকে।
সে যাই হোক এগুলো বলার মূল উদ্দেশ্য আল্লাহওয়ালা লোক আল্লাহওয়ালাদের লক্ষণ বুঝতে সক্ষম। যা কিনা সাধারণ মানুষ বুঝতে অক্ষম। কেননা আজকাল গ্রন্থের নামকরণ নিয়ে অনেক অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় সে কারণেই অনেক অনেক সময় অপ্রাসঙ্গিক কথাকেও প্রাসঙ্গিক কথার মতো গুরুত্ব দিয়ে পাঠককূলের বুঝার সুবিধার্থে বলতে হয়েছে।
এবার আসা যাক; প্রিয় পাঠককূল; অনেক অনেক প্রতিকূলতার মাঝেও অনেক মুনিষীদের গ্রন্থ অধ্যায়ন করতে হয়েছে। তাছাড়া সবকিছুই অধ্যায়নে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে না, অনেক ঐতিহাসিকের ইতিহাস অনেক জ্ঞানীদের জনশ্রুতি সংযোগ করতে হয়েছে। এ গ্রন্থটি লিখতে গিয়ে বাস্তবিক ফেৎনার কবলে পড়েছিলাম- আজও ফেনা থেকে রেহাই পাচ্ছি না, এতো প্রতিকূলতা সত্যেও একান্তে লেখার সুযোগ দিয়েছেন মহান আল্লাহপাক তার অসীম দয়ায়।
আমার এ লেখাগুলো পাঠককুল কেউ যদি জ্ঞান অর্জনে কেউ আবার কৌতূহলের বসে পড়ে থাকে তবেই আমার পরিশ্রম স্বার্থক হবে বলে আশা করি।
শৈশব, কিশোর, যৌবন বয়সেই মহৎ লোকদের মহৎ বাণীর অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। এর মধ্যে এই প্রকার গঠন কাহিনি ছোটোদের জন্য কৌতূহল বসে অণুপ্রেরণা মহৎ হওয়ার আগ্রহে কাজ করতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি।
মূলত ছোটো বড় সকল পাঠকদের জন্যই গ্রন্থটি একান্ত প্রয়োজনীয় বলে আমি মনে করি। প্রিয় পাঠক আমি একান্তই ভুলের মানুষ, ভুল হওয়াটাই আমার পক্ষে স্বাভাবিক বিষয়। ভুল ত্রুটি লেখার বর্ণনায় কাগজ কলমে, যাদের দ্বারা যান্ত্রিক ভাবে লিপিবদ্ধ হয় অনেক সময় মনের অজান্তে হয়ে থাকে। তবে এই সমস্ত চোখের ভুলগুলো মনের জ্ঞানের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকভাবে মিলিয়ে নিবেন। আর এই অধম ভুলের মানুষটির জন্য একটু দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ পাক যেন সর্বাবস্থায় হেফাজত করেন। আমিন।
-লেখক