বাংলা সাহিত্যের একজন তরুণ কবি শহীদ ওসমান হাদি, যেন একজন জাতীয়তাবাদী চেতনায় ঝিমিয়ে যাওয়া ইসলামি সংস্কৃতিকে লালন ও ধারন করতে বাংলাদেশিদের হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।
অন্যভাবে বললে, কবি শহীদ ওসমান হাদি আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলন তাঁকে দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হলো। আর সে কারণেই তিনি ফ্যাসিবাদীদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে ওঠেছিলেন। তিনি একদিকে শহীদ জিয়াউর রহমানকে সত্যিকার দেশ প্রেমিক এবং তাঁর স্ত্রী আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একজন বড় কলিজার বা সাহসী নারী যাঁকে ভারত কন্ট্রোল করতে পারেনি। এমন কথাগুলো কবি শহীদ ওসমান হাদি বলেছেন বহু সভা, সেমিনার বা টিভি টকশোতে। যা এই দেশের অনেকেরই মনের কথা ছিল। অনেকেই ধারণ করতেন তাঁর কথাগুলো। কিন্তু হয়তো কখনো বলতে পারেননি। যার ফলে তিনি খুব দ্রুতই একজন সাধারণ মানুষ থেকে আমজনতার নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। যা সকল দল, মত ও গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে ওঠা একজন খাঁটি দেশ প্রেমিক হিসেবে তাঁকে সামনে নিয়ে আসে। এত অল্প বয়সে এত মানুষের ভালোবাসা অর্জন আমাদের দেশে এর আগে কেউই দেখেনি। যা তাঁর জানাজায় মানুষের উপস্থিত প্রমাণ করে। ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে শহীদ ওসমান হাদির নিজের বলা কয়েকটা কথাÑ‘আমার প্রথম সন্তান ইনকিলাব মঞ্চ, দ্বিতীয় সন্তান ফিরনাস। পোলাপানগুলারে বেতন দেই না, ঠিকভাবে খাবারও খেতে পারে না কাজের জন্য। নিঃস্বার্থ ভাবে আমার সাথে লেগে থাকে। ওদের ভবিষ্যতের চিন্তাও ওদের নাই। আমার তো ওদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে হবে ডিয়ার।’
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর, প্রায় দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে, মসজিদ থেকে ফেরার সময় রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগরের কালভার্ট এলাকায় হাদি গুলিবিদ্ধ হন। মোটরসাইকেলে করে আসা হামলাকারীরা হাদির মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাদি। তাঁর জানাজায় অংশ নেন লক্ষাধিক মানুষ। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশেই তাকে শায়িত করা হয়।
এখন প্রশ্ন কবি শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার কি আদৌ হবে? সেটাই দেখার বিষয়। বিচার হবে না এই শব্দটাকেই মাথায় আনা যাবে না। বিচার হতেই হবে সেটা যেকোনো মূল্যে। বিচার আদায় না হলে ওসমান হাদিরা, বিপ্লবী বীরেরা এ দেশে আর জন্মাবে না। জুলাই-আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্তরা তাঁর স্মৃতি ও আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। খুনিরা শাস্তি পাবে সেটাই প্রত্যাশা।
শিল্প-সাহিত্যের কাগজ ‘কালের প্রতিবিম্ব’ সদা গুণীজনদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সুদীর্ঘ চৌদ্দ বছরের বেশি সময় ধরে। দেশের প্রতিথযশা, প্রচারবিমুখ কবি-লেখক নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের প্রয়াসে শুদ্ধ সাহিত্যচর্চা আলোকিত জীবন গড়ার মানসে এই দীর্ঘ পথ চলা। সবাইকে নিয়ে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায়...
Title
কালের প্রতিবিম্ব (শিল্প-সাহিত্যের কাগজ), ডিসেম্বর ২০২৫
কবি ও কলামিস্ট আবুল খায়ের নোয়াখালী জেলার আওতাধীন সেনবাগ উপজেলার পূর্ব মোহাম্মদপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ৩০ ডিসেম্বর ১৯৭৬ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা-মোহাম্মদ ইসহাক, মাতা-শামসুন্নাহার বেগম। পড়ালেখা: সরকারী তিতুমীর কলেজ থেকেস্নাতক; ঢাকা কলেজ থেকে এম.এ এবং মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার উপর PGD (ABP/UK) উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশের বাহিরে ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট এবং মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। লেখালেখি: স্কুল জীবন থেকেই ছড়া, কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস লেখালেখি করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর লেখা বিভিন্ন সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা/ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হতে থাকে। কলেজ জীবনেই অনেকগুলো কলেজ বার্ষিকী ও স্মরণীকা সম্পাদনা করেছেন। বিভিন্ন যৌথ কাব্যগ্রন্থ, ম্যাগাজিন ও লিটলম্যাগে তাঁর লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন। ইতিমধ্যে কলামিস্ট হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন। সম্মাননা: ‘কবিসংসদ বাংলাদেশ’ ঢাকা কর্তৃক প্রদত্ত: কবি জসিম উদ্দীন সাহিত্য পদক-২০১৯ (কবিতায়); কবি জীবনানন্দ দাশ সাহিত্য পুরস্কার-২০১৮ (কবিতায়); ‘উত্তরণ সাহিত্য আসর’ পাবনা কর্তৃক প্রদত্ত কবি বন্দে আলী মিয়া সাহিত্য পদক (প্রবন্ধে) ছাড়াও আরো অনেক সংস্থা কর্তৃক ক্রেষ্ট ও সম্মাননা অর্জন করেন। তিনি রংপুর বেতারে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর ছাড়াও বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলিঃ দীর্ঘশ^াসের সাথে বসবাস (কবিতা), অসহিষ্ণু পৃথিবীর বুকে (কবিতা), জীবনের প্রবাহ (প্রবন্ধ), দীর্ঘশ্বাসের সাথে বসবাস (উপন্যাস), ছড়ার দেশে খোকা খুকি বেড়ায় হেসে (শিশুতোষ ছড়া), বন্ধুর জন্য (কিশোর গল্প), তুমি ফিরে এলে (গানের সংকলন) ইত্যাদি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : অসহিষ্ণু পৃথিবীর বুকে (বইমেলা-২০১৯)। এছাড়াও শতাধিক যৌথ কাব্যগ্রন্থে ও লিটলম্যাগে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো প্রত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। পেশাগত জীবন: বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায়-ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।