আমার পূর্বপ্রকাশিত গ্রন্থ "দি এ্যানাটমি অব ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স" প্রকাশের পর বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে লেখার গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে- এমন অভিমত অনেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে পেয়েছি। একই সঙ্গে পরিবর্তিত বিসিএস পরীক্ষার কাঠামো ও প্রশ্নপ্যাটার্নের আলোকে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি নিয়ে রিটেন-বেইজড বই প্রকাশের জন্য পাঠকসমাজের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক অনুরোধও ছিল। সেই চাহিদা ও প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতেই বর্তমান গ্রন্থটি রচনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এই বইয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের লেখার মান, বিশ্লেষণক্ষমতা ও একাডেমিক উপস্থাপন উন্নত করা। এটি কোনোভাবেই প্রশ্ন হুবহু কমন পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য প্রণীত নয়। বর্তমান বিসিএস পরীক্ষার বাস্তবতায় বইয়ে যা পড়বেন, ঠিক সেভাবেই প্রশ্ন আসবে- এই ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। বরং পরিবর্তিত প্রশ্নপ্যাটার্নে ভালো করার জন্য একজন পরীক্ষার্থীকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয় অনুধাবনের সক্ষমতা তৈরি করাই এই বইয়ের লক্ষ্য।
প্রতিটি অধ্যায় প্রস্তুতের ক্ষেত্রে প্রথমে বিসিএস সিলেবাসের নির্ধারিত টপিকগুলো কাঠামোবদ্ধভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক অতিরিক্ত বিষয়, সমসাময়িক প্রবণতা (Recent Trends) ও বিশ্লেষণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করে অধ্যায়টিকে পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে। ফলে এখানে শুধু সিলেবাসভিত্তিক আলোচনা নয়, বরং পরীক্ষার জন্য প্রাসঙ্গিক ও বিশ্লেষণধর্মী বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে পরিবর্তিত প্রশ্নপ্যাটার্ন অনুযায়ী কী ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে- সে বিষয়ে একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের দ্রুত রিভিশনের সুবিধার্থে গুরুত্বপূর্ণ অংশে সারসংক্ষেপ (Summary) ও প্রয়োজনীয় টেবিল সংযোজন করা হয়েছে, যাতে অল্প সময়ে বিষয়বস্তু পুনরায় মনে করা সহজ হয়। বিসিএস লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রচলিত বাংলাদেশ বিষয়াবলির বইগুলো সাধারণত প্রশ্নোত্তর আকারে বিন্যস্ত। তবে ৪৬তম ও ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, কেবল প্রশ্নোত্তরভিত্তিক প্রস্তুতি সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নের ক্ষেত্রে খুব বেশি কার্যকর হয়নি। আউট অব দ্য বক্স চিন্তা ও সমালোচনামূলক বিশ্লেষণের সক্ষমতা ছাড়া এসব প্রশ্নে সন্তোষজনক নম্বর অর্জন করা কঠিন। গতানুগতিক মুখস্থনির্ভর উত্তর অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেক নম্বর অর্জনের জন্যও যথেষ্ট হয় না। এই বাস্তবতা বিবেচনায় বইটি টপিকভিত্তিক একাডেমিক কাঠামোর আলোকে সাজানো হয়েছে, যাতে যে কোনো প্রশ্নের উত্তরে প্রাসঙ্গিক তত্ত্ব, ধারণা ও উদাহরণ ব্যবহার করে সমৃদ্ধ ও মানসম্মত উত্তর লেখা সম্ভব হয়।
এই গ্রন্থে আমি আমার একাডেমিক জীবনে অর্জিত বিভিন্ন তত্ত্ব (Theory), পরিভাষা (Terminology) ও বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছি, যাতে পাঠকগণ কেবল তথ্যনির্ভর নয়, বরং একাডেমিক ও বিশ্লেষণমূলক লেখার সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে বিসিএস বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ নিয়ে যে বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি আমি অর্জন করেছি, তার প্রতিফলন এই বইয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় সীমিত থাকায় অনেক পরীক্ষার্থীর প্রত্যাশা ছিল বইটি দ্রুত প্রকাশের। যেহেতু এটি লিখিত প্রস্তুতি বিষয়ক আমার প্রথম গ্রন্থ, সেহেতু বানান বা ব্যাকরণগত কিছু অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি থেকে গেলে পাঠকগণ তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা করি। পরবর্তী সংস্করণে সেগুলো সংশোধনের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।
স্নাতক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মোহাম্মদ মিরাজ মিয়ার জন্ম চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার নন্দীখোলা গ্রামে। পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক করতে ভালোবাসেন। তুলনামূলক রাজনীতি, রাজনৈতিক অর্থনীতি, রাজনৈতিক দর্শন, আমেরিকান পলিটিক্স ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করা তার আগ্রহের বিষয়। লেখক বিশ্ব রাজনীতির সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও নিজস্ব ওয়েবসাইটে নিয়মিত লেখালেখি করেন। "দি এ্যানাটমি অব ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স" লেখকের প্রথম বই।