তানজিনা ইসলাম। তরুণ কবি। আবহমান বাংলার নদী, প্রকৃতি ও মানুষের সারল্য, যাপিত জীবনাচার— তাঁকে ভীষণভাবে আলোড়িত করে। তাঁর কবিতায় প্রেম, প্রকৃতিপ্রেম, নিসর্গ অবলীলায় উঠে আসে। তাঁর কবিতায় রূপকের চিত্রকল্পময়তা বাস্তবের মিশেলে উদ্ভাসিত হয়েছে, যা পাঠককে উদ্বেলিত করে।
নাম শিরোনামীয় কবিতা “তুমি মেঘবালিকা নও” কবিতায় রূপকার্থে দেখা যায়— তুমি হতে যদি মেঘবালিকা—/সুনীল আকাশে সীমাহীন ভেসে বেড়াতে,/ চারপাশের মানুষের দাম্ভিক শব্দদূষণ/ চিরায়ত কুসংস্কারের অকারণ আস্ফালন/ তোমাকে বিরক্ত করতো না।/ ফেলানির মতো কোন এক কাঁটাতারের বেড়ায়/ তোমার রক্ত-মাংসের শরীরটা ঝুলে থাকতো না;/ জানো তো! ফেলানি মেঘবালিকা ছিলো না।... তুমি হতে যদি মেঘবালিকা—/ শরতের কাশবনকে হয়তো হিংসে করতে/ শুভ্র ফুলগুলো তার ঝরিয়ে দিতে বৃষ্টি হয়ে/ ভাবতো সবাই অসময়ে শীত নামানো বৃষ্টি.../
কবি মেঘবালিকায় খুঁজে ফিরেছেন নারী স্বাধীনতা, ধর্ম, সংস্কার, কুসংস্কারের সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণের বেড়াজাল ডিঙ্গানোর এক অলঙ্ঘনীয় প্রতিবাদ। মেঘকে বালিকা, নারীর সাথে তুলনীয় করে চিত্রকল্পময় এক আবহ এই কবিতাকে অবর্তিত করেছে। যেমন— “নারী” তোমার জন্য এ সমাজে আছে অলিখিত সংবিধান/ আছে অসংখ্য সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ/ আছে ধর্ম, সংস্কার এমনকি কুসংস্কারের পেনাল কোড/ তোমায় রুখতে নো-এন্ট্রি, আর নিষেধাজ্ঞারও অভাব নেই/ কোনো ছাড় নেই, তোমাকে ভয় পেতে হবেই।
সবশেষে কবি বলেছেন— “আসল সত্যিটা হলো— কল্পনায় তুমি যা কিছুই হও/ বাস্তবে এই সমাজ-জাত ‘নারী’ তুমি মেঘবালিকা নও।” এমনিভাবে অসংখ্য যাদুকরী চরণ তাঁর এই কবিতাগ্রন্থে নানা মাত্রিক বোধের মিশ্রণে বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে।
“তুমি মেঘবালিকা নও” কবিতাগ্রন্থের কবিতাগুলো পাঠককে আন্দোলিত করবে, আনন্দের বারতা দেবে; সেই সাথে কিছুটা হলেও পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে— এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।