ঋতু পরিক্রমায় প্রকৃতিতে শীতের আবহ চললেও পৌষ মাসে শীত যেভাবে জেঁকে বসেছিল, মাঘ মাসের মাঝামাঝিতেও শীতের সেই দাপট অনুভূত হচ্ছে না। ‘মাঘের শীত বাঘের গায়ে’Ñএমন প্রবাদ থাকলেও শীতের দাপট নেই বললেই চলে। তবে বরাবরের মতো শীতকে কেন্দ্র করে পিঠাপুলির সংস্কৃতি চলেছে এবারও। জলবায়ু পরিবর্তন ঋতুবৈচিত্র্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলায় শীতের প্রকোপ কম বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। প্রতি বছর এ সময়ে আমাদের দেশে শীতপ্রধান দেশগুলো থেকে অজস্র প্রজাতির লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী পাখি আসে, শীতের শেষে যারা আবার তাদের দেশে ফিরে যায়। আমাদের পরিবেশ-প্রকৃতি পরিযায়ী পাখি আসার অনুপযুক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে এবার পাখি আসেনি। এটা প্রকৃতির জন্য মোটেও ভালো খবর নয়। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
গ্রাম-শহর এখন নির্বাচনী আবহে সরগরম। গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত নির্বাচন। বাংলাদেশে নির্বাচন উৎসবের আমেজ নেয়। কিন্তু বিগত সরকারের আমলের অধিকাংশ নির্বাচনগুলোতে মানুষের ভোট ছাড়াই নির্বাচন সংঘটিত হয়েছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে মানুষের অসন্তোষের শেষ ছিল না। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ সংস্কারের আশা করছে, যেটা একটি নির্বাচিত সরকার ছাড়া সম্ভব নয়। আগামী ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যে নির্বাচনের অপেক্ষায় দেশের মানুষ। দুটি নির্বাচনী জোট ছাড়াও বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে ব্যস্ত। এর মধ্যে ছোটখাটো কলহের সংবাদ যে আসছে না তা নয়, তার পরও আমরা আশা করব, নির্বাচনী পরিবেশ যেন শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ থাকে। কারণ যেকোনো ধরনের উত্তেজনা, সংঘর্ষ জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জনকে ফিকে করে দেবে। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেশের মানুষের প্রত্যাশাকে অর্থবহ করে তুলতে পারে। বহুদিন ধরে জনরাষ্ট্রের যে আকাক্সক্ষা মানুষ করছে, সে প্রত্যাশা পূরণ হবে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েÑএমন প্রত্যাশা আমাদের।
দেশকাল পত্রিকার এবারের সংখ্যাটিও সময়ের সেরা লেখাগুলোতে ঋদ্ধ হয়ে পাঠকের হাতে পৌঁছাবে অচিরেই। লেখক, পাঠক, গ্রাহক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতাসহ সবার মঙ্গল কামনা করি।