টেক্সাস রাজ্যের অস্টিন শহরটিকে রাতে একটি ঝলমলে মায়াবী পুরী মনে হয়। এক সন্ধ্যায় এই রূপের ছন্দপতন হল। সাইরেন বাজিয়ে অস্টিনের এক শহরতলীতে ছুটে এলো এ্যাম্বুলেন্স। জানা গেল শ্রিয়া প্যাটেল নামে এক ভারতীয় অভিবাসী তার স্বামী দিপক প্যাটেলকে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছে। অবাক করা ব্যাপার, এই বিয়েটা বর ও কণের পরিবার অ্যারেঞ্জ করেছে এবং মাত্র পাঁচদিন আগে শ্রিয়া আমেরিকা এসেছে। এই পাঁচদিনে এমন কি ঘটতে পারে যে একজন স্ত্রী তার স্বামীকে পুড়িয়ে মেরে ফেলতে চাইল? পত্র পত্রিকায় অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ এবং অভিবাসীদের কার্যকলাপ নিয়ে অনেক জল্পনা শুরু হল। হাসপাতালে নিয়ে, অত্যাধুনিক চিকিৎসা দিয়েও বাঁচানো যায়নি দিপক প্যাটেলকে। এবার শ্রিয়ার বিরুদ্ধে ক্যাপিটাল মার্ডার কেস আনা হল। আদালতে শ্রিয়া দাবী করল, কাজে কর্মে সফল হতে না পেরে দিপক আত্মহত্যা করতে চেয়েছে। সনাতন ধর্মের প্রথা মেনে, স্বামীর আদেশ পালন করতেই সে দিপককে সাহায্য করেছে। আমেরিকার বিচার ব্যবস্থা কি এই যুক্তি বিশ্বাস করবে?
একটি দৈনিক পত্রিকার কোর্ট রিপোর্টার হিসাবে অস্টিন এসেছে বাংলাদেশের ছাত্র তপন মাহমুদ। শ্রিয়ার কার্যকলাপের সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতি জড়িত থাকায় তপনকে এই কেসের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন আদালতে যেয়ে, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ দেখে, তপনকে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন শ্রিয়া প্যাটেল তার স্বামী দিপক প্যাটেলকে মেরে ফেলতে চেয়েছে? কাজের ছলে পরিচয় হল ফক্স টেলিভিশন নিউজের সাংবাদিক অপূর্ব সুন্দরী অলিভিয়া স্পেন্সারের সাথে। অলিভিয়া মনে করে হয়ত শ্রিয়া নির্দোষ, হয়ত সে স্বামীর আদেশ পালন করেছে মাত্র। শ্রিয়ার কেস নিয়ে আলাপ করতে যেয়ে তপন জানতে পারল, অলিভিয়ার থাকার জায়গা নেই, মেয়েটা রাতে গাড়িতে ঘুমায়। পরীর মতো সুন্দরী একটি মেয়ে গাড়িতে ঘুমায়? এ কি করে সম্ভব? অলিভিয়াকে নিজের এপার্টমেন্টে আমন্ত্রণ করল তপন। একদিকে একটি নৃশংস হত্যা মামলা, অপর দিকে অলিভিয়ার রহস্যময় অতীত। এক ঘূর্ণিপাকে পড়ল তপনের জীবন। কোথায় গিয়ে, কিভাবে এর শেষ হবে কেউ জানে না।
হাসান মাশরিকীর জন্ম, ছেলেবেলা এবং শিক্ষা সবই ঢাকায়। ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর্স ডিগ্রি লাভ করেন। তারপর উচ্চ শিক্ষার্থে আমেরিকা আসেন এবং লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভারসিটি থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএস এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে প্রকৌশলী হিসেবে আমেরিকার মেরিল্যান্ড রাজ্যে কর্মরত আছেন।