ময়মনসিংহ শহরের আমলা পাড়ায় টিএন রায় রোডে পুরনো দিনের একটি বাসায় চন্দ্রাবতীদের পরিবার ভাড়া থাকে। তার বাবা বিমল কুমার সাহা একটি খাতা বাইন্ডিংয়ের দোকানে ম্যানেজারের পদে চাকরি করে এবং মা সুমিতা সাহা গৃহিণী। তারা দুই বোন, এক ভাই। চন্দ্রাবতীর বোনের নাম অমরাবতী এবং তাদের একমাত্র ছোটো ভাইয়ের নাম রাহুল। তারা যে বাড়িটিতে থাকে তার উল্টো পাশে তাদের বাড়িওয়ালার বাসা। বাড়িওয়ালা হলেও তাদের পরিবারের সাথে উনাদের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। চন্দ্রাবতীরা বাড়িওয়ালাকে চাচা এবং তাঁর স্ত্রীকে চাচি বলে ডাকে। বাড়িওয়ালা চাচার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছেলে সেতুকে নিয়েই তাদের সুখের সংসার।
চন্দ্রাবতীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আর তাদের বাড়িওয়ালা মুসলিম। দুই বাসার মাঝখানে কেবল একটা বাঁশের বেড়ার পার্টিশন দেয়া আছে। তবে ইচ্ছে করলেই বেড়া একটু ফাঁক করে অনায়াসে যাওয়া-আসা করা যায়। দুই পরিবারের মধ্যে ধর্ম নিয়ে কোনো বিভেদ নেই, এমনকি কুসংস্কারের মনোভাবও নেই। একে অন্যের বাসায় যাতায়াত কিংবা খাওয়াদাওয়া নিয়ে কোনো প্রকার অচ্ছুতও নেই। তাই তো ঈদ কিংবা পূজাপার্বণে দুই পরিবারের সদস্যরা একত্রে আনন্দ উৎসবে মুখরিত হয়ে ওঠে।
চন্দ্রাবতী ভালো নাচে, আবার গানও বেশ গায়। তার বোনেরও গানের গলা ভীষণ মিষ্টি। পাড়ার পিকনিকে কিংবা কোনো অনুষ্ঠান হলে চন্দ্রাবতী নাচ পরিবেশন করে। কিন্তু চন্দ্রাবতীর তুলনায় অমরাবতী বেশ লাজুক। তাই সে ভালো গাইতে পারলেও কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে না। চন্দ্রাবতী দেখতে পুতুলের মতো সুন্দরী। পরিবারের সকলের কাছে সে খুব আদুরে বলে আহ্লাদ করে, সবাই তাকে চন্দ্রা বলে ডাকে। চন্দ্রার বড়ো বোন অমরাবতীর বিএ পড়তে পড়তেই বিয়ে হয়ে গেছে। তার বর একটা বেসরকারি কলেজের প্রফেসর, তবে বেশ অবস্থাসম্পন্ন। অমরাবতীর অবশ্য এত তাড়াতাড়ি বিয়ে হতো না। বাড়িওয়ালার ছেলে সেতুর সাথে অমরাবতীর গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, যা কেউই জানত না, তবে চন্দ্রাবতী ঠিকই আঁচ করতে পেরে তার দিদির সাথে কথা বলেছিল কিন্তু তার দিদি তাকে সব খুলে বললেও আবেগি হয়ে ছোট বোনকে অনুরোধ করেছিল, সে যেন কাউকেই কিছু না বলে। চন্দ্রাও সব জেনে চুপ থেকেছিল। কারণ বোনের সাথে সেতুকে দেখে খুব ভালো লাগত তার। সেতু ভীষণ ভালো ও মেধাবী একটি ছেলে। এরপর থেকে প্রায়ই গভীর রাতে দুই বারান্দার মাঝে বাঁশের বেড়া সরিয়ে অন্ধকারে বসে গল্প করত চন্দ্রার দিদি আর সেতু। তাদের আবার চন্দ্রাবতী নিজেই রাত জেগে পাহারা দিত।
এদিকে চন্দ্রাবতীও তাদের পাশের বাড়ির শাওন নামের মুসলিম যুবককে মনে মনে খুব পছন্দ করে। শাওনও যে চন্দ্রাবতীকে পছন্দ করে তা চন্দ্রাবতী ঠিকই বুঝতে পারে। কিন্তু দুজনের এই ভালো লাগা কিংবা ভালোবাসাটা কেউই প্রকাশ করে না। কাকতালীয়ভাবে প্রায়ই তাদের চলার পথে দেখা হয়ে যায়। তখন চোখে চোখেই ভাব বিনিময়ে দুজনার মনের মধ্যে যেন উথালপাতাল ঢেউ ওঠে। অকারণে ছল করে একে অন্যের বাসাতেও যাওয়া-আসা করে তারা। অহেতুক বাহানায় শাওনদের বাসায় গেলে শাওন চন্দ্রার দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে মিষ্টি হেসে জিজ্ঞেস করে,
কেমন আছো চন্দ্রা?
ভালো আছি।
বলেই চন্দ্রাবতী দুষ্টু হেসে মাথা নিচু করে ফেলে, আর এতেই যেন চন্দ্রাবতী স্বর্গীয় প্রেমের আস্বাদন পেয়ে যায়। ভালো লাগায় তার সমস্ত শরীরে ও মনে অদ্ভুত রকমের এক শিহরণ খেলা করে।
এর মধ্যেই একদিন গভীর রাতে তাদের মা ঘুম ভেঙে গেলে দুই মেয়েকে ঘরে না পেয়ে বারান্দায় খুঁজতে বেরিয়ে দেখেন সেতু ও অমরাবতী একসাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে গল্প করছে। এর একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে চন্দ্রাবতী। মায়ের চোখ যা বোঝার তা বুঝে নিল। পরবর্তী সময়ে এই ঘটনা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে হইচই পড়ে যায়। হিন্দু-মুসলিম পরিবারে যতই ভালো রিলেশন হোক না কেন, এটা বাস্তবে কেউই সহজে মেনে নেয় না। সেতু যতই মেধাবী স্টুডেন্ট হোক আর নম্র ভদ্র হোক না কেন, এটা দুই পরিবারের কেউ মেনে নেয়নি। বরং এসব কারণে দুই পরিবারের মধ্যে এতদিনের সুন্দর সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে গেল। অমরাবতী ও সেতুর সম্পর্কের ঘটনাটি তাদের দুই পরিবারের মধ্যে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই একটা আকস্মিক ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। দুই পরিবারের মধ্যে মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হয়ে যায়। বাড়িওয়ালা তাদের বাসা ছাড়ার নোটিস পর্যন্ত দিয়ে দেয়।
অমরাবতী দেবী প্রতিমার মতো সুন্দরী আর শান্ত স্বভাবের। স্বচ্ছ দিঘির মতো গভীর চোখ আর সেই চোখের দিকে তাকালে যেকোনো যুবকের বুকের ভেতর শান্ত ঢেউ বয়ে যায়। এমনকি যে কেউ মায়ায় জড়িয়ে যায়। অনেক যুবক তার চোখের প্রেমে পড়ে তাকে বউ করার স্বপ্ন দেখে মনে মনে। গানের কণ্ঠ অসম্ভব সুন্দর বলে সে যখন আনমনে আহ্লাদি মিষ্টি কণ্ঠে গান করে আশেপাশের লোকজন গান শুনতেও তাদের বাসার এসে আড়ালে আবডালে জানালা দিয়ে উঁকি দেয়। অমরাবতীর পায়ের দিকে তাকালে যে কেউ ওই পায়ের মালিক হতে চাইবে। আলতা পায়ে নূপুর পরে যখন সে হেঁটে যায় পাড়ার সবাই একবার হলেও তার পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখে।
চন্দ্রার বাবা-মা বাড়ি বদলাতে বাধ্য হলেন। বাড়ি বদলে তারা ওই এলাকা ছেড়ে দিয়ে অন্য এলাকায় চলে আসে। বাড়ি পাল্টানোর ফলে শুধু যে চন্দ্রার দিদির মন খারাপ লাগতো তা না, বরং বাসার সবারই প্রথম প্রথম খুবই খারাপ লাগত। দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী ও বন্ধুদের ছেড়ে আসতে হয়েছে, যাদের সাথে এতগুলো বছর কাটিয়েছে। চন্দ্রা ও তার ভাইবোনেরা প্রতিটি বিকেলে প্রতিবেশী বন্ধুদের সাথে একত্র হয়ে কানামাছি, বৌছি, ছিবুড়ি, গোল্লাছুট, ধরাধরি আরো কত কী খেলা করেছে। বর্ষাকালে ঝুমবৃষ্টিতে একসাথে ভিজতে বেরিয়েছে। চন্দ্রা তার বান্ধবীদের ছেলে পুতুলের সাথে মেয়ে পুতুলের বিয়ে দিয়েছে। তাদের সবার মায়েরাও বিকেল হলেই প্রতিবেশী ভাবিদের সাথে গল্পে মেতে উঠত। একত্র হয়ে এখানে-ওখানে বেড়াতে যেত, সিনেমা দেখতে যেত। বাসা বদলের পর চন্দ্রার মা-ও কিছুটা বিষণ্ণ হয়ে পড়েন। আসলে পৃথিবীতে রক্তের সম্পর্কই শুধু সম্পর্ক নয়, এর বাইরেও আত্মার সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা রক্তের সম্পর্ককেও হার মানায়। তাদের জন্য মন কাঁদে, বিচ্ছেদে মন খারাপের ধোঁয়ায় হৃৎপিণ্ড আঁধার হয়। বাসা পাল্টানোর আগে যে বিকেলগুলোর জন্য তারা মুখিয়ে থাকত এখন সে বিকেলবেলা থেকে পুরো সন্ধ্যাটাই অসহ্য মনে হয়, খুব অসহায় লাগে।
সময় কেটে যায়, তবে এই সময়টা ভীষণ কষ্টে কাটে। অমরাবতী চুপচাপ স্বভাব তাই মুখে কিছুই বলে না, তবে তার সুন্দর মুখটায় কালো মেঘের তিমির ছায়া স্পষ্ট হয়ে ফুটে থাকে। তার একমাত্র বন্ধু ছিল পাশের বাসার মিলা। ওরা বাসা পাল্টে চলে আসার সময় অমরাবতীর গলা জড়িয়ে ধরে মিলা খুব কেঁদেছে। তবে তাদের ছোট ভাই রাহুল মেধাবী পড়ুয়া ছেলে। এসব ঘটনার কোনো কিছুতেই তার যেন কোনো সমস্যা নেই। শুধু পড়াশোনা আর সময়মতো খাওয়াদাওয়া পেলেই ওর আর তেমন কিছু লাগে না। এই বয়সের বাচ্চারা যে কত রকমের দুষ্টুমি করে, রাহুল সেটাও করে না। তাই চন্দ্রার মা-বাবা রাহুলকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে। তাঁরা স্বপ্ন দেখে ছেলেকে ডাক্তারি পড়াবে। এদিকে চন্দ্রাও নীরবে নিভৃতে বসে কাঁদে। তার না বলা ভালো লাগা ও ভালোবাসার মানুষটার জন্য। কথা না হলেও চোখে চোখে কত কথা হতো তাদের! ইচ্ছে হলেই লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতে পেত সে তার মনের মানুষটিকে। অব্যক্ত প্রেমেই স্বপ্নে হারিয়ে যেত দূর থেকে বহুদূরে। কিশোরী মনে সমুদ্রের জোয়ারের ঢেউয়ের মতো আনন্দ খেলে যেত। সেই স্বপ্নিল মুহূর্তগুলো এখন থমকে গেছে। চন্দ্রার কেবলই মনে হয় তার আত্মার একটা অংশ ওপাড়ায় সে ফেলে রেখে এসেছে।
শাওন অবশ্য তাদের নতুন বাসার কাছে প্রায়ই আসে চন্দ্রাকে দেখতে। কিন্তু চন্দ্রা তার বাবা-মার ভয়ে কুঁকড়ে লুকিয়ে থাকে মানে নিজেকে শাওনের সামনে না এনে লুকিয়ে রাখে, একা বসে নীরবে কাঁদে। যাতে তার দিদির মতো অবস্থা না হয়। অথচ একসময় শাওনকে একটু দেখার জন্য কত অজুহাতে তাদের বাসায় চলে যেত চন্দ্রা। চোখাচোখিতেই হতো শতসহস্র কথার লেনদেন। এখন বিকেল হলেই এক আকাশ অবসন্নতা নিয়ে ফিরে যায় সে ষোড়শী বালিকা বেলায়। প্রেম সবসময়ই লাজুক, তবু ষোড়শী প্রেম বড্ড সাহসী হয়ে নিবেদনও করতে জানে। তারপরও তারা কেউই কাউকে প্রেম নিবেদন করেনি। মনে মনে এগিয়ে গেছে প্রেমের গভীরতা। তাদের ভাবনাতে একবারও আসেনি শাওন মুসলমান আর চন্দ্রা হিন্দু। অথচ চোখের সামনেই নিজের বোনের হিন্দু-মুসলিম প্রেমের সম্পর্কের কারণে অপবাদের বোঝা মাথায় নিয়ে চন্দ্রাদের পরিবারকে বাসাসহ এলাকা ছাড়তে হলো। তবু কেন যেন ভুল পথেই হাঁটে চন্দ্রার কিশোরী মন। সে অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করে। চাপা কান্নায় তার বুক ভেঙে যায়। মিথ্যে স্বপ্নের আবেগ সাজিয়ে অনর্থক একা একা কথা বলে। চন্দ্রা বোঝে, ভালোবাসা আর ভালো লাগাকে কখনো কখনো উপেক্ষা করতে হয়। পরিবারের কথা ভেবে চন্দ্রা তা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টাও করে। নিজেই নিজেকে জিজ্ঞেস করে, ‘আচ্ছা সত্যি কি আমি কখনো শাওন ভাইয়াকে ভুলে যেতে পারব? শাওন ভাইয়া কি আমাকে না দেখে থাকতে পারবে?’
এদিকে চন্দ্রার দিদি চুপিচুপি কাঁদে। উদাসী হয়ে জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। আকাশ জেগে থাকলেও অমরাবতীর ভেতরটা কষ্ট আর বিষণ্ণতায় ঘুমিয়ে থাকে দিন-রাত। মনে হয় খাঁচায় বন্দি পাখি ডানা মেলে উড়তে পারে না কতদিন! জমানো কষ্ট বুকে নিয়ে ছটফট করে। চন্দ্রার মনে হয় তার কাছে একটু সাহায্যের আশায় দিদি তাকিয়ে থাকে। প্রিয় মানুষের সাথে দেখা হওয়ার আশায়, কাছে যাওয়ার আশায়। চন্দ্রার খুব খারাপ লাগে তার দিদির জন্য, কিন্তু বাসায় ভীষণ কড়াকড়ি নিয়ম। কলেজ আর বাসা ছাড়া কোথাও যেতে দেয় না তাদের মা-বাবা। এর মধ্যেই একদিন কলেজে যাওয়ার নাম করে সমস্ত বাধা অতিক্রম করে, ভয়ডর উপেক্ষা করে শামুকের খোলস ছেড়ে আগের বাড়িওয়ালার ছেলে সেতুর সাথে এক দুপুরে সিনেমা দেখে ফিরে অমরাবতী। বাসায় ফিরে এসে চন্দ্রাকে ফিসফিসিয়ে সব বলে। চন্দ্রা তার দিদির মুখের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে। চন্দ্রার তার দিদিকে দেখে মনে হয় যেন সে উচ্ছল একটি পাখি। যার ভাঙা ডানা দুটো সেরে উঠেছে, বুকের গহিনের সব ব্যথার পীড়াও মিলিয়ে গেছে। চন্দ্রা বলে ওঠে,
ক্যায়া পেয়ার হে দিদি। তুমি তো দেখছি হিন্দি সিনেমার নায়িকা হয়ে গেছো!
যাহ্ এসব কি বলিস।
আমি কিন্তু বলে দেব।
না, তুই আমাকে বল, কাউকে বলবি না। লক্ষ্মী বোন আমার। তোকে আমি টাকা জমিয়ে কুসুম রঙের থ্রি পিস কিনে দেব। কুসুম রঙে তোকে আরো উজ্জ্বল লাগে। দেবীর মতো মনে হয়।
হয়েছে আর পটাতে হবে না। যাও বলব না, কিন্তু তুমি সাবধানে থেকো। দেখলে তো শুধু তোমাদের জন্যই আমাদের বাড়ি পাল্টাতে হলো।
অমরাবতী তখন অপরাধীর মতো মাথা নাড়ল। কিন্তু তার সঠিক অর্থ চন্দ্রাবতী কিছু বুঝতে পারল না।
এরপর থেকে অমরাবতী আর সেতুর ভালোবাসার গভীরতা বুঝতে পেরেও চন্দ্রা সব চেপে যেত। কোনো কিছু পাওয়ার লোভে নয়, তাদের একে অপরের প্রতি ভালোবাসার গভীরতা দেখে। তবে কথায় আছে, ‘যেখানে ভূতের ভয় সেখানেই রাত হয়।’ একদিন চন্দ্রার দিদি কলেজে যাওয়ার পথে সেতু বাইক নিয়ে অমরাবতীর সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলে, চলো অমরাবতী তোমাকে একটু বাইকে ঘুরিয়ে কলেজে পৌঁছে দেব০। যেই না অমরাবতীকে পেছনে বসিয়ে বাইক স্টার্ট করেছে অমনি সেতুর মামার সামনে পড়ে যায় তারা। এমন অবস্থায় তারা আর পালিয়েই বা যায় কোথায়! নতুন করে শুরু হলো আবার জানাজানি, দুই পরিবারের মিটিং আর ঝগড়াঝাঁটি।