বন্ধুত্বের অন্বেষণ: ‘চতুষ্কোণ গ্যাং’
যখন লিখতে শুরু করেছিলাম, তখন আমার মনে কেবল একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল: বন্ধুত্ব কি কেবল তারুণ্যের কয়েকটি মুহূর্ত, নাকি আজীবনের আশ্রয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই জন্ম নিল রিদওয়ান, সানিদ, তানভীর আর সুনিয়ার গল্প—‘চতুষ্কোণ গ্যাং’।
তারা কেউই নিখুঁত ছিল না। বরং তাদের ভুল, দ্বিধা, আর টানাপোড়েনই তাদের বাস্তব করে তুলেছে। তারা ঝগড়া করেছে, একে অপরের থেকে দূরে সরে গেছে, আবার ফিরেও এসেছে। জীবনের প্রতিটি বাঁকে তাদের বন্ধুত্ব নতুন নতুন রূপে উন্মোচিত হয়েছে।
এই উপন্যাসটি লেখার সময় বারবার মনে হয়েছে, বন্ধুত্ব নিছকই একটি সম্পর্ক নয়- এটি একটি আশ্রয়। পৃথিবী যখন কঠিন মনে হয়, যখন ঘরবাড়ি অচেনা লাগে, তখন আপনার বন্ধুরাই হয়ে ওঠে আপনার সত্যিকারের ঠিকানা। হয়তো তারা সব সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে না কিন্তু তারা পাশে থাকে। মাথায় হাত রেখে ভরসা দেয়— ‘তুই পারবি। আমরা আছি।’
আমার গল্পে কেউ নায়ক নয়, কেউ খলনায়কও নয়। সবাই কেবলই মানুষ। আর মানুষ মানেই ভুল, আবেগ, সংশয় এবং শুদ্ধতার এক অনন্ত অনুসন্ধান।
এই উপন্যাসের শেষে আমি চাই, পাঠক যেন তাদের নিজেদের বন্ধুদের কথা ভাবেন। সেই ক্যাম্পাস, সেই মেস রুম, রাতের আকাশের নিচে বসে গল্প করার মুহূর্তগুলো যেন তাদের স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে।
যারা বন্ধু হারিয়েছেন- তাদের জন্য এই বইটি একটি মৃদু আহ্বান। আর যারা বন্ধুত্বের বাঁধন ধরে রেখেছেন- তাদের প্রতি আমার অজস্র ধন্যবাদ।
যখন আমি লিখতে বসি, তখন আমি কেবল একজন গল্পকার নই; আমি নিজেও একজন বন্ধু— ঠিক আপনাদেরই মতো। যে হারিয়ে যেতে যেতে আবার ফিরে পায় তার চেনা মুখগুলোকে। এই বই যদি আপনার মনে বিন্দুমাত্র দোলা দেয়, যদি আপনার নিজের বন্ধুদের নাম মনে করিয়ে দেয়, তাহলে জেনে রাখবেন- এই লেখা, এই কণ্ঠস্বর, এই গল্প আপনারই জন্য।
সবশেষে, রিদওয়ানের কথা দিয়েই শেষ করি- ‘আমরা একসঙ্গে থেকে একে অপরকে আরও সমৃদ্ধ করব।’ এটাই হোক আমাদের বন্ধুত্বের প্রতিজ্ঞা।
বন্ধুত্ব বেঁচে থাক।
ভালোবাসা ছড়িয়ে যাক।