ফ্রিকোনমিক্স—নিউ ইয়র্ক টাইমসের বেস্টসেলার—সারা পৃথিবীতে তুমুল আলোড়ন তুলেছিল। বইটি পঁয়ত্রিশটি ভাষায় চার মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল এবং আমাদের চারপাশের দুনিয়াকে দেখার চোখটাই বদলে দিয়েছিল। এবার স্টিভেন ডি. লেভিট আর স্টিফেন জে. ডাবনার ফিরে এলেন সুপারফ্রিকোনমিক্স নিয়ে—আর পুরনো ভক্ত থেকে নতুন পাঠক, সবাইই দেখবেন “ফ্রিককুয়েল”টি আগের বইয়ের চেয়ে আরও সাহসী, আরও হাস্যরসাত্মক, আর আরও চমকে দেওয়া।
চার বছর ধরে তৈরি হওয়া এই বই শুধু কঠিন প্রশ্ন তোলে না—এটা তোলে এমন সব প্রশ্ন, যেগুলো সাধারণত মাথায়ই আসে না। যেমন: মাতাল হয়ে গাড়ি চালানো বেশি বিপজ্জনক, নাকি মাতাল হয়ে হাঁটা? কেমোথেরাপি যদি এতটাই অকার্যকর হয়, তাহলে এত ঘনঘন কেন দেওয়া হয়? লিঙ্গ পরিবর্তন কি আপনার বেতন বাড়াতে পারে?
সুপারফ্রিকোনমিক্স আবারও আমাদের ভাবনার জগতটা উল্টেপাল্টে দেয়। “সবকিছুর লুকানো দিক” খুঁজতে গিয়ে এটি এমন সব প্রশ্নের মুখোমুখি করে: রাস্তার একজন যৌনকর্মী আর ডিপার্টমেন্ট স্টোরের সান্তা ক্লজের মধ্যে মিল কী? ডাক্তাররা হাত ধোয়ার ব্যাপারে এত খারাপ কেন? শিশুদের কার সিট আসলে কতটা উপকার করে? একজন সন্ত্রাসী ধরার সবচেয়ে ভালো উপায় কী? টিভি কি সত্যিই অপরাধ বাড়িয়েছে? ঘূর্ণিঝড়, হার্ট অ্যাটাক আর হাইওয়ে দুর্ঘটনার মৃত্যুর মধ্যে মিল কোথায়? মানুষ কি জন্মগতভাবে পরোপকারী, নাকি স্বার্থপর? ক্যাঙ্গারু খেলে কি পৃথিবীকে বাঁচানো যায়? লাভ বাড়ায় কে বেশি—একজন দালাল, নাকি একজন রিয়েল-এস্টেট এজেন্ট?
লেভিট আর ডাবনারের বিশেষত্ব হলো—তারা বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তা আর দারুণ গল্প বলাকে এমনভাবে মিশিয়ে দেন, যা আর কেউ পারেন না। কখনো তারা গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের সমাধান খুঁজতে নেমে পড়েন, কখনো ব্যাখ্যা করেন—মৌখিক যৌনতার “দাম” কেন এতটা কমে গেছে। মানুষ কীভাবে প্রণোদনায় সাড়া দেয়—সেটা খুঁটিয়ে দেখে তারা দুনিয়াটাকে যেমন আছে, তেমনই তুলে ধরেন: ভালো, মন্দ, কুৎসিত—এবং শেষ পর্যন্ত… সুপার ফ্রিকি।
ফ্রিকোনমিক্সকে নকল করা হয়েছে বহুবার—কিন্তু সুপারফ্রিকোনমিক্স-এর মতো চ্যালেঞ্জ তাকে কেউ দিতে পারেনি।