ঠাকুরবাড়ির সেরা সুন্দরী কে? এই প্রশ্নের একটাই উত্তর, দিগম্বরী দেবী। তিনি রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরদা প্রিন্স দ্বারকানাথের পত্নী। ‘ম্লেচ্ছ’দের সঙ্গে দ্বারকানাথ পান-ভোজন করেন, এমন বার্তা পাওয়ার পর থেকে দিগম্বরী খুব প্রয়োজনে স্বামীর সঙ্গে কথা বললেই সাতঘড়া গঙ্গাজলে স্নান করতেন। তিনি ছিলেন ঠাকুরবাড়ির সর্বকালের সেরা সুন্দরী। বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে দ্বারকানাথের যে ক-টা জীবনী লেখা হয়েছে, সব জীবনীতেই বলা হয়েছে দিগম্বরী ছিলেন ‘অপরূপা সুন্দরী’, ‘সাক্ষাৎ জগদ্ধাত্রী’। ঠাকুরবাড়ির জগদ্ধাত্রী প্রতিমাও হত তাঁর মুখের আদলে। প্রিন্স-পুত্র দেবেন্দ্রনাথ ছিলেন অত্যন্ত সহৃদয় মানুষ। পরের জন্য কাতর হতে জানতেন তিনি। আপাতভাবে কখনো ‘সংসার পলাতক’ মনে হতে পারে। অথচ তিনি গোটা পরিবারটিকে নিয়মে, শৃঙ্খলায় বেঁধেছিলেন। তা সত্ত্বেও পরিবারজীবনে অস্থিরতা ছিল। এমনও পরিস্থিতি হয়েছে যে, সব ছেড়েছুড়ে তাঁকে থাকতে হয়েছিল পার্ক স্ট্রিটের ভিন্ন আবাসে। মহর্ষিদেব আবার ফিরেও এসেছিলেন তাঁর সাজানো সংসারে। পিতৃদেবের সহৃদয়তার আখ্যান ধরা রয়েছে এ বইতে। রয়েছে পুত্র রবীন্দ্রনাথেরও। তাঁর মরমী মনের পরিচয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পরিবার-পরিজনের প্রতি, বৃহত্তর মানুষের প্রতি রবীন্দ্রনাথের ছিল সুগভীর ভালোবাসা। আশ্রম-ছাত্রদের জন্য তাঁর কাতরতার, স্নেহময়তার কোনো তুলনা হয় না। আশ্রম-ছাত্রদের মশারিও গুঁজে দিতেন তিনি। এই বইতে আছে ঠাকুরবাড়ির অন্যান্য ব্যক্তিত্বদের কথাও। ঠাকুরবাড়ির বাজার-সরকার ছিলেন কাদম্বরীর পিতা। রবীন্দ্রনাথের বিয়ের রাতে মারা গিয়েছিলেন ঠাকুরবাড়ির জামাই সারদাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়। এমন কত না কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য, বিস্ময়কর সংবাদ। ভাবা যায়, ঠাকুরবাড়ির কন্যা ঘোড়ার পিঠে চড়ে বের হতেন জমিদারি-কাজে! বানানো গল্পকথা নয়, সত্যি ঘটনাবলির আশ্চর্য বিবরণ। এ বইয়ের পাতায় পাতায় রয়েছে অনেক বিস্ময়। অবাক হয়ে পড়তেই হবে!