তাগুত ইসলামী চিন্তাধারায় একটি অত্যন্ত গভীর, সূক্ষ্ম এবং গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। এই ধারণাটি শুধু ধর্মীয় পরিসরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর প্রভাব বিস্তার করেছে সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি সব ক্ষেত্রেই। তাগুতের প্রকৃতি, তার উত্থান ও পতন, এবং তার বিরুদ্ধে ইসলামী সংগ্রামের গুরুত্ব বিষয়ে সঠিক ধারণা লাভ করা মুসলিম উম্মাহর জন্য অপরিহার্য। কেননা, তাগুতের প্রকৃতি সম্পর্কে অবহেলা বা অজ্ঞতা আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক এবং নৈতিক জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
তাগুত এমন একটি শক্তি বা সত্ত্বা, যা আল্লাহর হুকুমের বিপরীতে চলে এবং আল্লাহর শাসনকে অস্বীকার করে। এটি কোনো ব্যক্তি, রাষ্ট্র বা সমাজের অন্যায় ক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, যা আল্লাহর বিধির পরিবর্তে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইতিহাসের পৃষ্ঠায় তাগুতের উদাহরণ অসংখ্য। যেমন, আদ, সামুদ, নামরূদ, ফিরআউন—এরা সবাই নিজেদের অহংকার ও ক্ষমতার দম্ভে আল্লাহর বিধির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। তবে ইসলামের সত্য—তাওহীদ ও ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা এবং আল্লাহর একত্বের প্রতি বিশ্বাস—অবশেষে তাদের পতন ঘটিয়েছে। ইতিহাস প্রমাণ করে যে, আল্লাহর কাছে টিকে থাকে কেবল সত্য, আর তাগুত একদিন ধ্বংসের মুখে পড়ে।
আজকের আধুনিক যুগে তাগুতের রূপ পরিবর্তিত হয়েছে, তবে এর প্রকৃতি অপরিবর্তিত। আধুনিক রাজনীতি, অর্থনীতি, মিডিয়া, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি—সব ক্ষেত্রেই তাগুতের আধিপত্যের নতুন নতুন রূপ দেখা যায়। পশ্চিমা সমাজে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ এবং ‘মানবাধিকার’ এর নামে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা, এবং মুসলিম যুবসমাজের মধ্যে আধুনিকতার নামে ঐতিহ্য থেকে বিচ্যুতি—এইসব তাগুতের আধিপত্যের এক নতুন দৃষ্টান্ত। এমন পরিস্থিতিতে, তাগুতের বিরুদ্ধে ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।