মধ্যবিত্ত বাবা-মার কোলেপিঠে বড় হয়ে রোকাইয়া মফস্বলে থেকেই মাস্টার্স শেষ করে। শিক্ষক বাবা-মার স্বপ্নের বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সে ঢাকা যায়। প্রস্তুতি পরীক্ষার ফলাফলে প্রথম হলেও ফলাফলের দিন জানা গেল, বিসিএস পরীক্ষায় আবার কোটা চালু হয়েছে— বন্ধ হয়েছে অগণন মেধাবীর বিসিএস স্বপ্ন।
সেদিনই কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু হলো ঢাকার বুকে। তারপর তা ছড়িয়ে গেল গ্রামে, মফস্বলে। ব্যাপক রক্তক্ষয়ের অবসানে সরকার কোটা বাতিল করল বটে, তবে বড় দেরিতে। ব্যাপক রক্ত ও প্রাণক্ষয়ের অবশ্যম্ভাবী পরিণতিতে ততদিনে সরকার পতনের একদফা দাবিতে পরিণত হয়ে গেছে। স্বপ্নের পুরুষের নেতৃত্বে কোটাবিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে যায় রুকু। একজন সাধারণ মানুষ হয়ে কীভাবে আন্দোলনে জড়ালো, হয়ে গেল তার মধ্যমণি রুকু নিজেও জানে না।
কিন্তু ইতিহাস জানে, নেতা নয়, শহুরে লোকজন নয়, সাধারণ মানুষের হাতেই শেষ পর্যন্ত জনযুদ্ধ পরিণতি পায়। কিন্তু সেই ইতিহাসই তাদের মনে রাখে না। প্রতিটা বিজয়ের মতো এই বিজয়ও এলো বিপুল বেদনায়। অগণন শহীদের মতো বিজয়ের দিনে রুকু দেখল স্বপ্নের সেই মানুষটিও আর নেই। তবে সে বেঁচে রইল রুকুর ভেতরে, ভালোবেসে রুকু তার নাম রাখল স্বাধীনতা।
Report incorrect information