রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা
আল্লাহ তাআলা কেবল এ পৃথিবীর স্রষ্টাই নন বরং তিনি পৃথিবীর সকল মানব জাতির প্রতিপালকও বটে। কুরআনের শুরুতেই আল্লাহ তাআলা নিজেকে বিশ্ব প্রতিপালক (রাকবুল আলামিন। ঘোষণা দিয়েছেন। ইরশাদ করেন,
ومَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا
পৃথিবীর সকল জীব-জন্তর রিজিক একমাত্র আল্লাহর হাতেই। সুরা হুদ।
আয়াত: ৬।
প্রভুত্বের দাবিই হচ্ছে, সকল মানুষের প্রয়োজনীয় বস্তু রবের কারিম ব্যক্তির যথোপোযুক্ততার ভিত্তিতে আঞ্জাম দিবেন। কুরআনের ভাষায় আরো শুনুন, وَلَقَدْ مَكَّنَّاكُمْ فِي الْأَرْضِ وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَابِشُ قَلِيلًا مَا تَشْكُرُونَ
আমি তোমাদের পৃথিবীতে ঠাঁই দিয়েছি এবং তোমাদের জীবিকা নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। সুরা আরাফ: আয়াত; ১০।
অন্যত্রে আরো বলেন
الله الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ وَسَخَّرَ لَكُمُ الْفُلْكَ لِتَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِأَمْرِهِ وَسَخَّرَ لكُمُ الْأَنْهَارُ وَسَخَّرَ لَكُمُ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ دَائِبَيْنِ وَسَخَّرَ لَكُمُ اللَّيْلَ
তিন, মানফাআত যা গ্রহণ না করলে শারীরিক উপকার লাভ হবে তবে গ্রহণ না করলেও কোনো ক্ষতি হবে না। জায়েয পন্থায় এ জিনিস অর্জন হলে ব্যবহার করবে আর না গেলে সবর করবে।
চার, যিনাত: বা দ্বারা কোনো শারীরিক শক্তি অর্জন হয় না। তবে আন্তরিক প্রশান্তি লাভ হয়।
পড়ি, ফুযুল বৈধতার গণ্ডির বাইরে আন্তরিক প্রশান্তি লাভ করার আকাঙ্খা করা। হাদিসে এ কাজের বিরোধীতা করা হয়েছে। (জাওয়াহিরুল ফিকহ, ৭/৩৫, জাকারিয়া দেওবন্দ, ভারত) ইসলাম প্রথম চার প্রকার মানবীয় প্রয়োজনকে বৈধতার স্বীকৃতি দিয়েছে এবং পঞ্চন প্রকার প্রয়োজন বা চাহিদাকে নিষিদ্ধ করেছে। মানুষ প্রয়োজনে প্রথম চার প্রকারে তার ধন সম্পদ ব্যয় করতে পারে।
১৩. ইসলামী অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিই হলো, অর্থের মালিক মানুষ নয় বরং মানুষের প্রষ্টা আল্লাহ তাআলা। তিনিই রিজিকদাতা। মানুষ যেহেতু সম্পদের মুখাপেক্ষী এবং সম্পদ ছাড়া ইবাদাতও আঞ্জাম দেয়া সম্ভব নয় তাই সম্পদ ব্যবহার ও ভোগের ক্ষেত্রে মানুষকে বিশেষ প্রতিনিধিত্বমূলক মালিকানা প্রদান করেছেন। মোটকথা আমাদের মনে রাখতে হবে, রিজিকদাতা একমাত্র আল্লাহ তাআলা। সম্পদের প্রকৃত মালিক তিনিই। সম্পদে মানুষের মালিকানা প্রতিনিধি স্বরূপوَالنَّهَارَ وَآتَاكُمْ مِنْ كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوهُ وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ
الْإِنْسَانَ لَظَلُومٌ كَفَّار
তিনিই আল্লাহ, যিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জন্য ফলের রিজিক উৎপন্ন করেছেন। এবং নৌকাকে তোমাদের আজ্ঞাবহ করেছেন। যাতে তার আদেশে সমুদ্রে চলাফেরা করতে পারো এবং নদ-নদীকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন সূর্যকে এবং চন্দ্রকে সর্বদা এক নিয়মে। রাত ও দিনকে তোমাদের কাজে লাগিয়েছেন। যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছো তার প্রত্যেকটি থেকেই তিনি তোমাদের দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর তবে গুনে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী, অকৃতজ্ঞ। সুরা ইবরাহিম: আয়াত; ৩২-৩৪।
দুনিয়াতে সুশঙ্খল জীবনযাপন ও আল্লাহর ইবাদত করতে চাহিদা পরিমাণ সম্পদের প্রয়োজন দেখা দেয় সবার। বিলাসিতামুক্ত প্রয়োজন পরিমাণ সম্পদ উপার্জন করতে ইসলাম সবাইকে উৎসাহিত করে। তবে মনে রাখতে হবে, সম্পদ উপার্জন ও রিজিক কেবল আল্লাহর দান ও অনুগ্রহ। তিনি যতটুকু দিবেন বান্দা ততটুকুই উপার্জন করতে পারবে। এর বেশি নয়। কোনো ব্যক্তি সম্পদশালী হওয়া বা গরিব হওয়া সবই আল্লাহর হাতে। তার একান্ত ইচ্ছায়। বান্দার রিজিক বৃদ্ধি হওয়া ও হ্রাস পাওয়া আল্লাহর হাতে। তাই তো দেখা যায়, এক ব্যক্তি অনেক পরিশ্রম করার পরও গরিব থেকে যায় আবার অনেকে স্বল্প পরিশ্রমে অনেক সম্পদের মালিক হয়। আল্লাহর কাছে মাকবুল হওয়ার মানদণ্ড হচ্ছে বিশুদ্ধ ঈমান ও নেক আমল। বুঝা গেল, আমলহীন ব্যক্তি কোটিপতি হলেও ব্যর্থ। আর গরিব আমলওয়ালা হলেও সফল।
আয়ের সমবণ্টন নয় সুষম বণ্টন চায় ইসলাম
ইসলাম সম্পদের (Wealth) সুষম বণ্টন প্রত্যাশী। ইসলাম চায় হকদার যেন পূর্ণ হক তার অধিকার বলে পায়। সকল মানুষ ধন-সম্পদ ও অর্থ-বাণিজ্যে বরাবর হবে, সবাই সম্পদশালী হবে- এমন মেকি দর্শন ইসলামে গ্রহণীয় নয়। এবং যৌক্তিক বিচারেও তা মানব জাতির জন্য কল্যাণকর নয়। এ ব্যাপারে ইসলামের ঘোষণা হলো,। এ সম্পদ তার দেয়া নিয়মে