বাবার রচিত গ্রন্থ পরে ভৈরবকুঞ্জে গিয়ে পাই পেয়েছি মনোজদার কাছে। সঙ্গে পেয়েছি পূর্ণানন্দ মজুমদারের ‘কাশীনিবাসী ১১৬ বর্ষীয় সাধুবাবার সঙ্গলাভ’ গ্রন্থটি। কোন গ্রন্থেই বাবার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেই। উচ্চমার্গের মহাত্মাগণ নিজেকে লুকিয়ে রাখতেই ভালবাসেন। বাবাও এর ব্যতিক্রম নয়। কথা প্রসঙ্গে দু’একটা কথা বলেন মাত্র। পরে বাবার সুযোগ্য শিষ্য শ্রীতপু রায় থেকে পেলাম ডা. শ্যামল ভট্টাচার্যের লেখা ‘প্রজ্ঞালোকের দিশারী’ গ্রন্থটি। এ তিনটি গ্রন্থের আলোকেই পুস্তিকাটি সঙ্কলিত হল। এটি প্রথাগত জীবনী গ্রন্থ নয়। শ্রীশ্রীশিবানন্দবাবার পূর্ণাঙ্গ জীবনী গ্রন্থ আজও প্রকাশিত হয় নি, কোনদিন প্রকাশিত হবে বলে মনে হয় না। কারণ তিনি প্রচারবিমুখ। সত্যিকার সাধক নিজের বিভূতি লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করেন। বাবার নির্দেশে তাঁর অপার কৃপায় এই পুস্তিকাটি সঙ্কলিত হল। আমার মত অভাজনকে তিনি কেন অহেতুক কৃপা করলেন আমি অনেক ভেবেও এর কোন উত্তর খোঁজে পাই নি। কৃপাসিন্ধু কাকে কখন কী কৃপা করেন তা বোধ ও বোধির অগম্য। বাবা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। তাই কী লিখব এ চিন্তা করতে করতেই কিছুদিন গেল। বাবার আদেশ পালন না করা অপরাধ। তাই শেষ পর্যন্ত গঙ্গাজলে গঙ্গাপূজায় ব্রতী হলাম। তিনি যা লিখাবেন তাই লিখব। নিজেকে যখন তাঁর শ্রীচরণে সমর্পণ করে দিলাম, তখনই লেখা শুরু হয়ে দ্রুত শেষ হলো। আমার বিশ্বাস বাবাকে যাঁরা কাছে থেকে দীর্ঘদিন দেখেছেন তারা তাঁর সম্পর্কে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা লিপিবদ্ধ করবেন। এতে তাঁর মধুরিমার কথা ভক্তগণ জানতে পারবেন। বাবার আদেশ পালন করতে চেষ্টা করেছি মাত্র।
জন্ম : ৩০ জুন ১৯৫১, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে। পিতা : প্রয়াত রুদ্রেশ্বর শর্মা মাতা : প্রয়াতা সুশীলাময়ী শর্মা শিক্ষা ও কর্মজীবন : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স সহ স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান লাভ। ১৯৭৪ সালে বর্তমান। লক্ষ্মীপুর জেলার লক্ষ্মীপুর কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু। ১৯৭৬ সালে যােগ দেন সরকারি কলেজে। রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ, বৃন্দাবন। সরকারি কলেজ ও মুরারিচাঁদ কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। ২০০৪ সালে প্রফেসর পদে পদোন্নতি লাভ। মুরারিচাঁদ কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি মেট্রোপলিটন ইউনির্ভাসিটির প্রফেসর পদে কর্মরত। পুরস্কার : শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়ােজিত জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০০০-এ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে স্বর্ণপদক লাভ। সাহিত্য পুরস্কার : বিএনএসএ সাহিত্য। পুরস্কার ১৯৯৬, মহাকবি সৈয়দ সুলতান সাহিত্য পুরস্কার ২০০১, রাগীব রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার ২০০৪, ডা. এ রসুল সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪।