ছফা বর্ণিত 'শনিবারের চিঠি'র দাঁড়কাক নীরদ সি চৌধুরীর 'নির্বাচিত প্রবন্ধ' জ্ঞান,প্রজ্ঞা, মতামতে একগুঁয়েমি ও চরম সাম্প্রদায়িক এবং উগ্র বাংলাদেশবিরোধী মন্তব্যে পূর্ণ।
নীরদ সি চৌধুরী নামটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর এক লেখায় পড়েছিলাম নীরদ সি চৌধুরী নাকি দশ হাজার বই পড়েছেন! এটা পড়ার পর নামটি মাথায় ছিল। মূলত দশ হাজার বইসংক্রান্ত দাবিটি নীরদ সি চৌধুরী নিজেই করেছেন। তিনি লিখেছেন,
' আমি সারাজীবন কম হইলেও দশ হাজার বই পড়িয়াছি। '
দশহাজারি নীরদ সি চৌধুরীর পান্ডিত্য প্রশ্নতীত। তিনি নেতাজির ভ্রাতা শরৎচন্দ্র বসুর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। ১৯৩৯-১৯৪১ সাল পর্যন্ত। তাই দেশবিভাগ নিয়ে কিছু ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তিনি। এই বিষয়ে তাঁর রচিত প্রবন্ধগুলো বিশেষ মর্যাদার দাবি রাখে।
বাংলাদেশ নাকী স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ নয় ইত্যাদি ইত্যাদি লিখে বড় প্রবন্ধ ফাঁদলেন নীরদ সি চৌধুরী। পড়তে গিয়ে গা ঘিনঘিন করছিল। একটি মানুষসদৃশ ব্যক্তি কীভাবে এত উগ্র হতে পারেন?
ভারতের হিন্দুরা মুসলমানী পোশাক পরে জাত খোয়াচ্ছে! এমনই মনে করেন নীরদ সি চৌধুরী। মেয়েরা মুসলমানদের সালোয়ার, কামিজ পরে। হিন্দু পুরুষরা কোর্তা, পাজামা পরে। চুজ পাজামা পরে। এসব মুসলমানীগন্ধের পোশাক পরিধানের মতো হেন কাজ করে হিন্দুদের জাত,পাত চলে যাওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন নীরদ সি চৌধুরী। পরামর্শ দিয়েছেন প্রাচীন আর্যদের ন্যায় পোশাক পরিধানের।
শিল্পকলা, পশ্চিমের সঙ্গীত এবং নন্দলাল বসুকে নিয়ে লেখা প্রবন্ধগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নীরদ সি চৌধুরীর অগাধ পাণ্ডিত্যের পরিচয় এতে পাওয়া যায়। পাঠকের জানার, বোঝার অনেক সুযোগও তৈরি হয়।
বাদামি সাহেব নীরদ সি চৌধুরী এক অদ্ভুত ব্যক্তি। তাঁর একগুয়েমি, মতামতের উগ্রতা এবং জ্ঞানের জন্য হয়তো তাঁকে কেউ কেউ ঘৃণা করবে, কেউবা হবে তাঁর গুণমুগ্ধ। কিন্তু এমনই একজন ব্যক্তি নীরদ সি চৌধুরী যাকে একেবারে বাতিল করা কখনোই সম্ভব নয়।