পৃথিবী আমল করার স্থান এবং আখেরাত হল প্রতিদানের স্থান। নবী করীম (সা.) বলেছেন, দুনিয়া হল আখেরাতের শস্যক্ষেত্র।
কোন বিবেকবান উদ্দেশ্যহীনভাবে কোন কাজ করে না। প্রত্যেকটি কাজের মধ্যে কোন না কোন উদ্দেশ্য ও স্বার্থ অন্তরে নিহীত থাকে। মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন কুরআনে বলেছেন, তোমরা কি ভেবেছো যে, তোমাদেরকে উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করেছি, আর আমার কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে না?
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে এ দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন। সময় শেষ হলে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে। এ গ্রন্থখানায় নেক আমলের গুরুত্ব, আমলের পথে বাঁধাসমূহ, একজন মুসলমানের জন্যে কি কি করণীয় তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। জিহ্বা ও গোপন অঙ্গ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে পাপাচার থেকে বিরত থাকার অপরিহার্যতা, তার মারাত্মক পরিণাম সম্পর্কিত বিষয়াদী নিয়ে লিখিত এ গ্রন্থটি মূলত দুটি গ্রন্থের সমষ্টি। এ গ্রন্থটির একটি অংশ সুফী সাধক আল্লামা ইমাম আবু মুহাম্মদ ইবনে আহমেদ গাযযালী (রহ.) কর্তৃক লিখিত। তিনি তাঁর একজন মুরিদের প্রশ্নের উত্তর স্বরূপ এ গ্রন্থ লিখেছেন। এ গ্রন্থে তিনি এমন সব বিষয় আলোচনা করেছেন যা অধ্যয়ন প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্যে অতীব প্রয়োজন। এ গ্রন্থ ইমাম গাযযালী (রহ.) এর লিখিত অন্যান্য গ্রন্থের সারসংক্ষেপ বললেও অতিরঞ্জিত হবে না। এ গ্রন্থে মানুষের অন্তর পার্থিব আকর্ষণমুক্ত হয়ে নেক আমলের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গ্রন্থটির অপর অংশ মুফতী এনায়েত আহমেদ (রহ.) এর মিজানুল ফেরদাউস নামক গ্রন্থের অনুবাদ। আল্লাহ্র নবী (সা.) যে বিষয়ে উম্মতের জন্যে বেহেশতের গ্যারান্টি দিয়েছেন সে বিষয়ের উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে এ গ্রন্থটি। কাজেই তার দুঃশ্চিন্তার কোন কারণ নেই।