"মা-বাবার অধিকার "বইটির ভূমিকা: الحمد لله وكفى وسلام على عباده الذين اصطفى রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে যে সত্য ও হেদায়ত নিয়ে এ ধরায় আগমন করেছেন, তন্মধ্যে সর্বপ্রথম বস্তু ছিল ঈমান ও তাওহীদের দাওয়াত। অতঃপর যে ব্যক্তি তার উক্ত দাওয়াত কবুল করে নিত, তিনি তাকে আমলী জিন্দিগী গঠন করার জন্য পথপ্রদর্শন করতেন। তাঁর সেই উপদেশাবলীকে মূলত দুভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমতঃ, ঐ সকল বিষয় যা বান্দাদের উপর আল্লাহ্ তা'আলার হকের সাথে সংশ্লিষ্ট। যে ব্যাপারে তিনি বলে দিয়েছেন যে, বান্দাদের উপর আল্লাহ্ তা'আলার কি হক রয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের উপর ফরযসমূহ কি কি। আর এ সকল হক ও ফরয তারা কিভাবে আদায় করবে। | দ্বিতীয়তঃ, তাঁর শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত ছিল ঐ সকল বিষয় যা বান্দাদের হকের সাথে সংশ্লিষ্ট। যার মধ্যে বলা হয়েছে যে, বান্দাদের উপর অন্য বান্দাদের ও সর্বসাধারণের কি কি হক রয়েছে। এ পার্থিব জগতে কোন ব্যক্তি যখন অন্য ব্যক্তির সাথে অথবা কোন মাখলুকের সাথে কোন বিষয়ে জড়িত হয় বা কোন কিছু আদান-প্রদান করে, তখন তাদের মধ্যে কি নীতিমালা হওয়া উচিত এবং এ বিষয়ে আল্লাহ্ তা'আলার বিধান কি। হুক্কুল ইবাদের মাসআলা এজন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ভীতিপ্রদ যে, এতে কোন ত্রুটি হলে অথবা কারাে হক নষ্ট হলে কিংবা কোন যুলুম বা বাড়াবাড়ি হলে, আল্লাহ্ তা'আলা অত্যন্ত দয়ালু ও দাতা হওয়া সত্ত্বেও তার ক্ষমা ও মুক্তির ব্যাপারে তিনি স্বীয় হস্ত প্রসারিত করেন না;বরং (তা থেকে বাঁচার) উপায় হল, হয়ত ইহজগতে ঐ ব্যক্তির হক আদায় করে দেবে অথবা তার নিকট
(১৯২৫—২০০২) দক্ষিণ এশিয়ার ইসলামী চিন্তা-চেতনা ও ফিকহী-ঐতিহ্যের ধারক- বাহক এবং অন্যতম বিশিষ্ট আলেম ছিলেন। তিনি শাইখুল হাদীস যাকারিয়া কান্ধলভী রহ.-এর প্রখ্যাত শিষ্য এবং দারুল উলূম করাচির দারুল ইফতা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।
১৯২৫ সালে উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরে জন্মগ্রহণ করে তিনি মাদরাসা ইমদাদিয়াহ মুরাদাবাদ, জামে মসজিদ আলীগড় এবং মাযহারুল উলূম সাহারানপুরে শিক্ষা গ্রহণ করেন। উচ্চতর শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর তিনি ফিরোজপুর ঝিরকা, মুরাদাবাদ ও কলকাতার বিভিন্ন মাদরাসায় অধ্যাপনা করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি দারুল উলূম করাচিতে যোগদান করেন এবং ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সেখানে হাদীস-তাফসির পাঠদান ও ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর রচিত ৭৫ টিরও অধিক গ্রন্থে ইসলামী সমাজতত্ত্ব, পারিবারিক নীতি, ফিকহ, আখলাক ও আত্মশুদ্ধির বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ হলো— তোহফা-ই-খাওয়াতীন, মারনে কে বাদ কেয়া হোগা, ইসলামী আদাব, হক্কুল ওয়ালিদাইন, আনওয়ারুল বয়ান, যাদুত তালিবিন ইত্যাদি।
মাওলানা আশেক ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. জীবনের শেষ পর্বে মদিনায় হিজরত করেন এবং প্রায় পঁচিশ বছর সেখানে অবস্থান করেন। ২০০২ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং উনাকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।