১৯৪৫ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওর ঢাকা কেন্দ্রে এলেন হাকীম হাবিবুর রহমান। ঢাকার আদি বাসিন্দা হাকীম হাবিবুর রহমান ঢাকা রেডিওতে পঞ্চাশ বছর আগেকার ঢাকা অর্থাৎ ১৯০০ সালের ঢাকার স্মৃতিচারণ করলেন ষোল পর্বে। সেই স্মৃতিচারণাকে গ্রন্থাকরে লিপিবদ্ধ করতে উৎসাহ দেন খাজা নাজিমুদ্দিন। তারই বাংলা গ্রন্থরূপ এই বই।
হাকীম সাহেব কি কি তা প্রায় সবই মাথা থেকে উবে গেছে। দু'একটি মনে আছে। ঢাকা ছিল ফূর্তির নগরী। সে ফূর্তি হোক খানাপিনা নিয়ে বা উৎসব নিয়ে। একসময় বিশ পদের পোলাও ঢাকাবাসী রাঁধত। এখন যে পোলাও আমরা খাই তার নাম ছিল 'হোগলা' পোলাও। পোলাও জাতের নমঃশুদ্র ছিল এই পোলাও। শিক কাবাব হত পনেরবিশ কেজি ওজনের।তা খুব স্বাভাবিক ছিল। মির্জা সাদেক মুন্সির বয়ানে জানা যায়, বহু আগে ঢাকায় ঘাটুগানের প্রচলন ছিল। একসময় অবশ্য তা বন্ধ হয়ে যায়। বিরানভূমি ছিল আজকের আধুনিক ঢাকা।
হিন্দু-মুসলমান বিদ্বেষের চিত্র তেমন পাইনি এই বইতে।দু'সম্প্রদায় তখনও মিলেমিশে পার্বণ পালন করত। কুস্তি খেলত। চৈত্রসংক্রান্তি উৎসব চৈতালী হলেও এখানে চড়ক পূজার কথা আছে। আছে লক্ষ্ণৌর বাঈজিদের কথা। আছে ঢাকার নবাবদের প্রভাবের কথা। এত এত উৎসব তখনকার ঢাকায় লেগেই থাকত যে এখন তা অলীক ভাবনা মনে হতে পারে পাঠকের কাছে। হয়ত হাকীম হাবিবুর রহমান পজেটিভ ঢাকার কথাই বলতে এসেছিলেন।
রঙিন ঢাকার স্মৃতি নিয়ে বইতে কমপক্ষে দুইবার পড়া দরকার ছিল। বেশকিছু ঘটনা বুঝতে পারিনি। মূল উর্দু থেকে অনূদিত হওয়ার কারণ ছাড়াও স্বয়ং হাকীম হাবিবুর রহমান বেশকিছু অপ্রচলিত শব্দ ব্যবহার করেছিলেন তা বুঝতে অনুবাদকও পারেন নি, আমি কোন ছাড়!
আজ থেকে একশ বছরেরও আগের অচেনা অজানা ঢাকায় ঘুরে আসতে পারেন হাকীম হাবিবুর রহমানের সাথে। নিঃসন্দেহে বিশ্বাস করতে পারবেন না।